সুপ্রিয়ার গর্ভেই শেষ হয়ে যায় একটি প্রাণ! জন্মের আগেই সন্তানকে হারিয়েছিলেন উত্তম কুমার! কি ঘটেছিল সেই দিন?

একটা সময় ছিল, যখন সুপ্রিয়া দেবীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলত তুমুল চর্চা। উত্তম কুমারকে ভালবেসেছিলেন বলেই, তাঁকে কত কী না শুনতে হয়েছিল! কেউ বলেছে রক্ষিতা, কেউ কটাক্ষ করেছে তাঁর সম্মান নিয়েও। কিন্তু এসব নিয়ে কোনও দিনই মাথা ঘামাননি সুপ্রিয়া। কারণ তাঁর ভালবাসা ছিল নিখাদ, নিঃশর্ত। উত্তমের প্রতি সেই টান এতটাই গভীর ছিল যে, বাইরের দুনিয়ার কথা তাঁর কাছে তখন তুচ্ছ।

উত্তমও কম যাননি। জীবনের সব সুখ, সব ভরসা যেন জমা রেখেছিলেন শুধু সুপ্রিয়ার কাছে। তাঁদের প্রেম ছিল সাহসী, স্পষ্ট আর আবেগে ভরপুর। কিন্তু তাও কি সব সুখ মেলে জীবনে? না… সবটা তো বিধাতার হাতে।

তাই তো চাইলেও মা হতে পারেননি সুপ্রিয়া। অথচ, কত স্বপ্ন ছিল! সন্তানের জন্য নামও ঠিক করে রেখেছিলেন তাঁরা— ভ্রমর!
কিন্তু সেই সন্তান, সেই স্বপ্নটাই শেষ হয়ে যায়, সুপ্রিয়ার গর্ভেই।

এই গল্পটা প্রথম শুনে চমকে গিয়েছিল সবাই।

ঘটনা বহু বছর আগের। পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ আর ‘চন্দ্রবিন্দু’-র অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় একসঙ্গে করছিলেন একটি অনুষ্ঠান— ‘অচেনা উত্তম’। উত্তম কুমারকে ঘিরে এমন এক অনুষ্ঠান, যেখানে আসেন তাঁর জীবনের ঘনিষ্ঠরা। সেদিনই উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিয়া দেবী।

ক্যামেরার সামনে বসে উত্তমকে নিয়ে স্মৃতি বলছিলেন তিনি। কখনও চোখে জল, কখনও মুচকি হাসি। হঠাৎই যেন থমকে গেলেন। নিজে থেকেই বলে উঠলেন— “আমাদের এক সন্তান হওয়ার কথা ছিল।”

এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ। কেউ প্রশ্ন করেনি, কেউ কিছু আঁচও করতে পারেনি। কিন্তু নিজেই আবেগে বলে ফেললেন সুপ্রিয়া। জানালেন, সেই সন্তান জন্মাবার আগেই তাঁর গর্ভেই নষ্ট হয়ে যায়। আর উত্তম? তিনি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন সন্তানের নাম—
‘ভ্রমর’।

সেদিন আর বেশি কিছু বলেননি সুপ্রিয়া। শুধু একবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর আবার ফিরে গেলেন অন্য স্মৃতিতে।

তবে সেদিন সুপ্রিয়ার মুখে বলা সেই ক’টি শব্দ যেন সবার মনে গভীর দাগ কেটে গিয়েছিল। ‘ভ্রমর’ হয়ে রয়ে গিয়েছে এক অপূর্ণ কিন্তু মধুর গল্পের প্রতীক হয়ে।

উত্তম-সুপ্রিয়ার প্রেমের সেই একটিমাত্র চিহ্ন— যা হয়ে রইল চিরকাল না-পাওয়া একটা স্বপ্ন…
একটা অমলিন, অথচ হৃদয়ভাঙা ভালবাসার প্রতিধ্বনি।