কে বলেছে আপন হতে গেলে রক্তের সম্পর্কের প্রয়োজন হয়? কোন রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মাঝে মাঝে কিছু মানুষ এত বেশি আপন হয়ে যায় যে, যায়না তারা মাত্র কয়েক দিনের চেনা। স্টার জলসার (Star jalsha) অনুরাগের ছোঁয়ায় (Anurager chowa) ধারাবাহিকের নায়িকা দীপার ছোট্ট মেয়ে রুপা বর্তমানে যেখানে থাকছে এবং যাদের কাছে থাকছে তারাও রুপার ঠিক এতটাই আপন হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছে দীপার সংসার।
বর্তমান গল্প অনুযায়ী, বন্যায় ভেসে গিয়েছিল দীপা আর রুপা। সবাই সবার থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। তারা যে আবার প্রত্যেকে প্রত্যেককে খুঁজে পাবে তার কোন সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু সৌভাগ্যবশত এখন সূর্য দীপা এবং সোনা তিনজনে এক ছাদের তলায় একসাথে হতে পেরেছে। তবে রুপা এখনো তাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কারণ নিজের বাবার উপর ভীষণ অভিমান করেছে সে। আর এই অভিমান তাকে তার বাবার কাছ অব্দি পৌঁছাতে দিচ্ছে না। সে শুধুমাত্র তার মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

অনুরাগের ছোঁয়া আজকের পর্ব ১০ সেপ্টেম্বর (Anurager Chowa Today Episode 10 September)
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, দীপা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। ভাবতে থাকে তার রুপা এখন কোথায় থাকতে পারে। বাড়ির প্রত্যেকে ভীষণ কষ্ট পায় কারণ রুপাকে এখনো অব্দি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমন সময় অনুজা দীপাকে বলে, রুপাকে নিয়ে এত মাতামাতি সোনার জন্য ভালো হচ্ছে না। সোনা ভাবছে তার জন্যই সবটা ঘটেছে। এইভাবে মানসিক অবসাদে ভুগছে বাচ্চা মেয়েটা। তাই ওর দিকেও নজর দেওয়া উচিত।
দীপা তাড়াতাড়ি সোনার কাছে চলে যায়। সেখানে গিয়ে এসে দেখে, সোনা প্রচন্ড রেগে গেছে। সে কারোর কথা শুনতে চাইছে না জিনিসপত্র এদিক-ওদিক ছুঁড়ে ফেলছে। দীপা আর সূর্য বুঝতে পারে রুপার হারিয়ে যাওয়াটা সোনা কিছুতেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি। এই সবকিছুর জন্য সোনা বারবার নিজেকেই দায়ী করছে। তাই জন্য এমন ব্যবহার করে ফেলছে। দীপা অনেক ভালবেসে সোনাকে জড়িয়ে ধরে। তাকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তারপরেও সোনা ভাবতে থাকে তার মা হয়তো তাকে ছেড়ে চলে যাবে।
আরও পড়ুনঃ নতুন ধারাবাহিকে ফিরছে দুর্জয়! কোন ধারাবাহিকে, আর নায়িকাই বা কে? জেনে নিন এখনই
রুপার জন্য সর্বস্ব দিতে রাজি ফান্টুশ
এদিকে রুপা একটা বুদ্ধি বের করে। সে ঠিক করে সে তার মায়ের একটা নিখোঁজ হওয়ার বিজ্ঞাপন দেবে। তাহলে তার মাকে সবাই মিলে খুঁজে এনে দিতে পারবে। কিন্তু এই বিজ্ঞাপন দিতে অনেক খরচ। আর সেই খরচ জোগাড় করতে ফান্টুশ এতদিন ধরে জমানোর সমস্ত অর্থ রুপার হাতে তুলে দেয়। শুধু তাই নয় ফান্টুশের ছোট্ট ছেলেটা নিজের লক্ষ্মীর ভাঁড় এনে রুপার হাতে ধরিয়ে দেয়। জেলে পাড়ার প্রত্যেকটা মানুষ নিজেদের সাধ্যমত রুপাকে সাহায্য করার চেষ্টা করে। কারণ সবাই চায় একটা মা হারা মেয়ে তার মাকে খুঁজে পাক। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও যে আপন হওয়া যায় সেটা প্রমাণ করে দেখিয়ে দেয় তারা।





