স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক চিরসখার আজকের পর্বে দর্শকদের সামনে এল একেবারে অপ্রত্যাশিত মোড়। আনন্দ আর উৎসবের আবহে যেখানে পরিবারের মুখে হাসি থাকার কথা ছিল, সেখানেই আচমকা নেমে আসে উদ্বেগের ছায়া। মিঠির শরীর খারাপ হওয়ার ঘটনা ঘিরে গোটা পরিবারে শুরু হয় জল্পনা। ধারাবাহিকের প্রতিটি পর্বেই চমক থাকলেও আজকের পর্ব যেন দর্শকদের জন্য আলাদা করে ধাক্কা দিয়ে গেল। হাসি গল্প আর আনন্দের মাঝেই যে এমন গভীর সংকেত লুকিয়ে ছিল, তা কেউ ভাবতেও পারেনি।
আজকের পর্বে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের মাঝখানেই হঠাৎ অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে মিঠি। তীব্র মাথা যন্ত্রণা আর বমি বমি ভাব তাকে একেবারে কাবু করে দেয়। চোখের সামনে এমন অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ে বাড়ির আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায়। কেউ বুঝে উঠতে পারছিল না ঠিক কী কারণে এমন শারীরিক সমস্যা দেখা দিল। মিঠিকে ঘিরে শুরু হয় দুশ্চিন্তা আর নানা প্রশ্ন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন একের পর এক উপসর্গ সামনে আসে। বারবার বমি ভাব মাথা ঘোরা আর দুর্বলতায় মিঠি কার্যত ভেঙে পড়ে। বাড়ির বড়রা প্রথমে মনে করেন বাইরের খাবার কিংবা অনিয়মই হয়তো এই সমস্যার কারণ। ঠিক সেই সময় বর্ষা জানায়, কয়েকদিন ধরেই মিঠির আচরণে অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টক খাবারের প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণ ভাতের গন্ধে অস্বস্তি এসব কথা শুনে অনেকেই অবাক হয়ে যান। মিঠিও স্বীকার করে নেয় এই পরিবর্তনের কথা।
এই সব লক্ষণ শুনেই কমলিনীর মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। অভিজ্ঞ মা হিসেবে তিনি বুঝে যান, বিষয়টি সাধারণ পেটের সমস্যা নয়। মেয়েকে আলাদা করে নিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করার পর যে সত্য সামনে আসে, তা একপ্রকার বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। কমলিনী বুঝতে পারেন, মিঠির গর্ভে নতুন প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। এই উপলব্ধি তাঁর মুখের হাসি কেড়ে নেয়, চোখে ভাসে চিন্তার ছায়া। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সমাজ আর ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ টলিউডের অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে আনা জরুরি? মুখ খুললেন গৌরব চক্রবর্তী!
মিঠির বর্তমান পরিস্থিতি আর সামাজিক চাপের কথা মাথায় রেখে পরিবার আপাতত বড় সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক হয়, এখনই কৃশানুকে কিছু জানানো হবে না। কিন্তু এত বড় সত্য কতদিন চাপা রাখা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। মিঠির জীবনের এই মোড় চিরসখার গল্পকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা জানতে দর্শকদের তাকিয়ে থাকতে হবে আগামী পর্বের দিকে।





