এতগুলো বছর লোকচক্ষুর আড়ালেই আদিরা! মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন রানি মুখোপাধ্যায়?

২০১৫ সালে মা হওয়ার পর থেকেই ব্যক্তিগত জীবনকে আগের থেকেও বেশি আগলে রেখেছেন রানি মুখোপাধ্যায়। রানি ও আদিত্য চোপড়ার একমাত্র কন্যা আদিরার বয়স এখন ১০ বছর। বলিউডের সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবারগুলির একটির সন্তান হলেও আদিরাকে বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন তাঁর বাবা মা। আদিত্য চোপড়া নিজে যেমন চরম প্রচারবিমুখ, মেয়েকেও ঠিক সেই ভাবেই বড় করতে চান তিনি। তাই এত বছর পেরিয়ে গেলেও অন্য তারকাসন্তানদের মতো সমাজমাধ্যমে আদিরার উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।

তারকা বাবা মায়ের সন্তান হলেই যে বিশেষ সুবিধা পেতেই হবে, এই ধারণায় বিশ্বাসী নন রানি। তাঁর মতে, ছোটবেলা থেকেই আলাদা করে ট্রিট করলে শিশুর মানসিক গঠন প্রভাবিত হতে পারে। তাই আদিরাকে তিনি একেবারে সাধারণ জীবনের স্বাদ দিতে চান। রানি ও আদিত্য দুজনেই মনে করেন, এখনই ক্যামেরার সামনে এনে মেয়েকে অস্বস্তিতে ফেলার কোনও প্রয়োজন নেই। খ্যাতির আলোয় নয়, বরং স্বাভাবিক পরিবেশেই আদিরা বড় হোক, এটাই তাঁদের একমাত্র চাওয়া।

তবে মেয়ের প্রতিভা নিয়ে গর্ব লুকোননি অভিনেত্রী। রানি জানান, আদিরার মধ্যে তিনি তাঁর শ্বশুর কিংবদন্তি পরিচালক যশ চোপড়ার ছায়া দেখতে পান। শুধু তাই নয়, লেখালিখিতেও নাকি আদিরার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। বই পড়া আর নিজের ভাবনা লেখার মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পায় সে। এই ছোট বয়সেই মেয়ের সৃজনশীল দিক দেখে আপ্লুত রানি, তবে কোনও কিছুর জন্যই জোর করতে নারাজ তিনি।

অভিনেত্রী জানান, আপাতত আদিরা তাইকোন্ডো শিখছে। শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলার জন্যই এই প্রশিক্ষণ। রানি বলেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মেয়ের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি। ভবিষ্যতে আদিরা অভিনেত্রী হবে না কি বাবার মতো ব্যবসার গুরুদায়িত্ব সামলাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা মেয়ের হাতেই থাকবে। তিনি শুধু পাশে থাকবেন একজন অভিভাবক হিসেবে।

রানির মতে, জীবনে সবচেয়ে বড় সাফল্য হল খুশি থাকা। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ যদি নিজের কাজে ও জীবনে আনন্দ খুঁজে পায়, তবেই সে সত্যিকারের সফল হতে পারে। সেই শিক্ষাই তিনি মেয়েকে দিতে চান। আদিরা জীবনে যাই করুক, যে পথই বেছে নিক, মায়ের সমর্থন সবসময় তার সঙ্গেই থাকবে। খ্যাতির ভার নয়, বরং সুখী ও সুস্থ মানুষ হয়ে ওঠাই আদিরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল ভিত্তি।