শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ছোট্ট জিজ্ঞাসা ছবির হাত ধরে ১৯৬৮ সালে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ভেঙে গড়ে তুলেছেন বারবার। কখনও খলনায়ক, কখনও রোম্যান্টিক নায়ক আবার কখনও সংবেদনশীল চরিত্রে দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। ধীরে ধীরে প্রসেনজিৎ হয়ে উঠেছেন টলিপাড়ার আপন মানুষ বুম্বাদা, যার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক প্রজন্মের আবেগ।
বাণিজ্যিক ছবির দুনিয়ায় তিনি যেমন বাংলা ছবির ব্যবসায় নতুন দিশা দেখিয়েছেন, তেমনই ভিন্ন ধারার ছবিতে নিজেকে প্রমাণ করে তাক লাগিয়েছেন সমালোচকদের কাছেও। একসময় বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েই এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। শুধু টলিপাড়ায় নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বি টাউনেও নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন প্রসেনজিৎ। এই দীর্ঘ পথচলার পরিশ্রম আর সাধনাই এবার পেল দেশের স্বীকৃতি। রবিবার ঘোষণা হয়েছে, পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন তিনি।
এই খবরে খুশির হাওয়া বয়ে গিয়েছে টলিপাড়া জুড়ে। সহকর্মী থেকে অনুরাগী, সকলেই শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন অভিনেতাকে। পরিবারের মধ্যেও আনন্দের কমতি নেই। দিদি পল্লবী চট্টোপাধ্যায় যেমন গর্বিত, তেমনই সমান উচ্ছ্বসিত সৎ বোন সাম্ভবী চট্টোপাধ্যায়। সাম্ভবী হলেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ইরা চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা। ইরা চট্টোপাধ্যায় নিজেও দীর্ঘদিন মঞ্চ নাটকের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রোডিউসার ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন।
দাদার এই সাফল্য নিয়ে আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাম্ভবী জানান, তাঁর বন্ধুরাও এই খবরে ভীষণ উত্তেজিত। অনেক বছর আগে দাদার সঙ্গে তাঁর কয়েকজন বন্ধুর দেখাও হয়েছিল বলে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। দাদা বোনের সম্পর্ক খুবই মধুর। বিশেষ করে বৌদি অর্পিতা সাম্ভবীর খুব কাছের মানুষ। মুম্বই গেলে প্রসেনজিৎ প্রায়ই সৎ মা ও বোনকে নিয়ে বাইরে খাওয়া দাওয়া আর ঘোরাঘুরিতে সময় কাটান।
আরও পড়ুনঃ নতুন বছরে নতুন শুরু! মনের মানুষের সঙ্গে সারলেন বাগদান! আংটি বদলের মধ্যে দিয়েই অদ্রিজা রায়ের প্রেমের উদযাপন!

উল্লেখ্য, দিল্লির কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের পক্ষ থেকেই রবিবার এই সম্মানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কয়েক দশক ধরে বাংলা সিনেমাকে নিজের ঘামে আর মেধায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এই অভিনেতার জন্য এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বুম্বাদার এই সাফল্যে গর্বিত গোটা বাংলা।





