টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী হলেন রূপালী ভট্টাচার্য (Rupali Bhattacharya)। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি আঞ্চলিক মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে তার অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সমকালীন বাংলা টেলিভিশন সিরিয়ালে তার শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শকদের বারবার মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে নেতিবাচক বা এন্টাগনিস্ট চরিত্রে তার অভিনয় ক্ষমতা তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে এক আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন পেশাদার কপিরাইটার হিসেবেও কাজ করেছেন, যা তার সৃজনশীল সত্তার বহুমুখী প্রতিভাকেই প্রকাশ করে। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নতুন সিনেমার কাজ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে বেশ আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
সাক্ষাৎকারে রূপালী তার ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, তা হলো ‘টাইপকাস্ট’ হওয়া। তিনি জানান, একজন অভিনেত্রী হিসেবে বারবার তাকে একই ধরণের নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা তার সৃজনশীলতাকে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে। তিনি এখন পুলিশ অফিসার বা অতি সাধারণ ‘রক্ত-মাংসের’ চরিত্রে অভিনয় করতে অনেক বেশি আগ্রহী। এছাড়া টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবীণ বা অভিজ্ঞ শিল্পীদের ক্ষেত্রে বাজেটের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, অনেক সময় প্রোডাকশন হাউজগুলো খরচ কমাতে নতুন মুখদের বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে পরিচালক অর্জুন দত্তের নতুন ছবিতে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের একটি চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছেন, যা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
আরও পড়ুনঃ এইবার জলসার পর্দায় সব্যসাচী-মানালির জুটি! নতুন মেগা ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে! প্রকাশ্যে নতুন প্রোমো!
টলিউড বা গ্ল্যামার দুনিয়ায় ‘লবি’ বা গোষ্ঠী রাজনীতি নিয়ে রূপালী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট লবি বা দলের অংশ নন এবং সবার সাথেই এক চমৎকার সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। তার মতে, কাজে ফাঁকি না দেওয়া এবং সময়ের প্রতি দায়বদ্ধ থাকাই হলো সবথেকে বড় যোগ্যতা। তিনি কিছুটা কৌতুকপূর্ণ স্বরে বলেন যে, যদি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছের মানুষ হওয়ার কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা ‘কোর্স’ থাকতো, তবে তিনি সেখানে নির্দ্বিধায় ভর্তি হতেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসলে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে পেশাদারিত্বকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই বলতে চেয়েছেন।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিজেপি প্রসঙ্গে বক্তব্য
রাজনীতিতে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তী তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে রূপালী কোনো রাখঢাক না করেই কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, কয়েক বছর আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ছিল তার জীবনের একটি “ভুল সিদ্ধান্ত”। তিনি ভেবেছিলেন রাজনীতির মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। রাজনৈতিক দল থেকে বড় অংকের টাকা নেওয়ার যে গুঞ্জন রটেছিল, তা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান যে, কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয় বরং আদর্শগত কারণেই তিনি গিয়েছিলেন এবং মোহভঙ্গ হওয়ার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে এসেছেন।
সাক্ষাৎকারের শেষ ভাগে রূপালী তার দীর্ঘদিনের স্কিন কেয়ার এক্সপার্ট ও ব্যক্তিগত বন্ধু জয়জিতের সাথে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেন। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি জয়জিতের কাছে তার ত্বকের যত্ন নিচ্ছেন এবং তার ওপর গভীর আস্থা পোষণ করেন। এছাড়া জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের রাজনীতিতে আসা নিয়ে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন রূপালী। তিনি দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা শিল্পীদের ‘ভগবান’ হিসেবে না দেখে সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন। শিল্পীদের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাদের দীর্ঘ বছরের পরিশ্রম ও কন্ট্রিবিউশনকে বয়কট করা মোটেও কাম্য নয় বলে তিনি মনে করেন।





