চলচ্চিত্রের পরিচিত চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক শাগুফতা রফিকের জীবনের শুরুটা ছিল চরম কষ্টে ভরা। ছোটবেলায় স্বাভাবিক শৈশব কাটানোর সুযোগই পাননি তিনি। জন্মদাত্রী মায়ের পরিচয় না জেনেই বড় হয়েছেন শাগুফতা। তাঁকে মানুষ করেন প্রবীণ অভিনেত্রী আনোয়ারী বেগম। তবে অনেকেই তাঁকে আনোয়ারীর নাতনি বলে মনে করতেন। শাগুফতার জন্মপরিচয় নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও তাঁর প্রকৃত বাবা-মা কে, তা আজও অজানা।
ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাগুফতা জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁদের পরিবার আর্থিক সমস্যার মধ্যে ছিল। তাঁর পালক মায়ের জীবনে থাকা এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে সংসারের আয় একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় পরিবারকে বাঁচাতে মাত্র ১২ বছর বয়সেই তাঁকে ব্যক্তিগত পার্টিতে নাচতে যেতে হয়। ছোট বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হন তিনি।
শাগুফতা বলেন, যেসব ফ্ল্যাটে এই পার্টিগুলো হতো, সেখানকার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বস্তিকর। সেখানে ধনী ব্যক্তিরা তাঁদের সঙ্গিনী ও যৌনকর্মীদের নিয়ে আসতেন। অনুষ্ঠান শেষে মেঝেতে পড়ে থাকা টাকা কুড়িয়ে নেওয়ার ঘটনাও তাঁর জীবনের অংশ ছিল। অল্প বয়সেই এমন কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে, যা তাঁর শৈশবকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন ১৭ বছর বয়সে শাগুফতা যৌনপেশায় যেতে বাধ্য হন। পরে তিনি জানান, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর মনে গভীর মানসিক আঘাত তৈরি করেছিল। তাঁর পালক মা বিষয়টি জানলেও কখনও এই কাজকে সমর্থন করেননি। কিন্তু সংসারের ভয়াবহ আর্থিক সংকটের কারণে শাগুফতার কাছে তখন অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না।
আরও পড়ুনঃ ‘একে অন্যের কাছে পুরনো প্রেম লুকোইনি, কারণ…’ সম্পর্কে কোনও লুকোচুরি নয়! পুরনো সম্পর্ক থেকে ব্যক্তিগত জীবন, অকপটে কুশল চক্রবর্তী!
সাক্ষাৎকারে শাগুফতা আরও জানান, সেই সময় তিনি প্রতি রাতে প্রায় ৩০০০ টাকা আয় করতেন। সেই টাকায় প্রথমবার পরিবারের জন্য ভালো খাবার কিনতে পেরেছিলেন। এমনকি নিজের মায়ের জন্য সোনার চুড়িও উপহার দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সংগ্রাম, দারিদ্র্য এবং কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়েই তিনি পরে চলচ্চিত্র জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন।





