‘ভুল ছিল আমারই, সব অভিযোগ মাথা পেতে নিচ্ছি!’ বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে অকপট জয়জিৎ ব্যানার্জি!

অভিনেতা জয়জিৎ ব্যানার্জি (Joyjit Banerjee) এবং শ্রেয়া ব্যানার্জির দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ টলিউডের জন্য অত্যন্ত আকস্মিক এবং বেদনাদায়ক একটি ঘটনা। ২০২৫ সালের শেষের দিকে যখন এই বিচ্ছেদের খবরটি সামনে আসে, তখন জানা যায় যে গত কয়েক মাস ধরেই টলিপাড়ার অন্দরে এটি নিয়ে গুঞ্জন ছিল। তবে অভিনেতা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে বিষয়টিকে আড়ালে রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি কখনই চাননি তাঁর জীবনের এই কঠিন সময়টি নিয়ে বাইরে চর্চা বা সংবাদমাধ্যমে কাটাছেঁড়া হোক।

তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তাঁর মেজাজ এবং আচরণের কিছু কঠিন দিক হয়তো এই সম্পর্কের ভাঙনের পেছনে দায়ী ছিল এবং সেই সমস্ত অভিযোগ তিনি হাসিমুখে মাথা পেতে নিয়েছেন। অভিনেতা জানান যে, বর্তমানে তিনি একা থাকলেও তাঁর ছেলের সাথে সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং বাবার দায়িত্ব পালনে তিনি অবিচল।

সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রাক্তন স্ত্রীর কোনো অভিযোগের বিরুদ্ধেই তিনি পাল্টা যুক্তি দেবেন না। তাঁর মতে, অভিযোগ যাই হোক না কেন, দিনশেষে তিনি তাঁর সন্তানের মা, আর সেই সম্মানের জায়গাটি জয়জিৎ অক্ষুণ্ণ রাখতে চান। বিচ্ছেদের এই কঠিন মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তিনি কোনোভাবেই কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হতে রাজি নন বরং নিজের সম্পর্কে ওঠা সমস্ত অভিযোগ তিনি নীরবে এবং বিনম্রভাবে মাথা পেতে নিয়েছেন। কোনো বিতর্ক বা আত্মপক্ষ সমর্থনের পথে না হেঁটে তিনি এই পর্যায়টিকে জীবনের এক চরম বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নিয়েছেন।

অভিনেতা বলেন, ‘আমি মেনে নিচ্ছি আমার সব খারাপ, আমি খারাপ। আমি সবটা মেনে নিচ্ছি। আমার সন্তানের মায়ের সম্পর্কে কোনও অভিযোগ নেই।’ তাঁর নীরবতার মূল কারণ হলো তাঁর ছেলে যশজিৎ। তিনি মনে করেন, মা ও বাবার মধ্যেকার তিক্ততা বা বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা প্রকারান্তরে সন্তানের সম্মান এবং মানসিক স্থিতির ওপর আঘাত হানে। তাই নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার চেয়েও ছেলের মানসিক শান্তি তাঁর কাছে অনেক বেশি দামী। অভিনেতা বলেন, ‘ও খুব ইন্ট্রোভার্ট, আমার মতো এক্সট্রোভার্ট নয়। ও মুখে না বললেও কখনও কখনও খারাপ লাগছে ওর। ও নিজেই নিজেকে হ্যান্ডেল করছে। যথেষ্ট ম্যাচিওর। জীবনে সবাইকে যুদ্ধ করতে হয়। ওকে ওর মতো করে যুদ্ধ করতে হয়েছে, আমাকে আমার মতো করে।’

বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে অভিনেতা বলেন, ‘যে কোনও সম্পর্কে তিক্ত হয়ে গেলে অথবা সেই সম্পর্কে ক্রমাগত তিক্ততা বাড়তে থাকলে তা ছেড়ে বেরিয়ে আসাই সৎ সিদ্ধান্ত। আর আমরা দু’জনেই যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক তাই এই সিদ্ধান্ত দু’জন মিলেই নিয়েছি। আর একটা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, একে অপরের বিরুদ্ধে আমাদের কিন্তু কোনও অভিযোগ নেই, রাগ নেই। আবার এটাও ঠিক আমার প্রাক্তন স্ত্রী এখন কী করছেন অথবা কার সঙ্গে আছেন-সে সম্পর্কে জানারও আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। সত্যিই নেই। কারও সঙ্গে কোনও সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে এই আগ্রহগুলো থাকার কথাও নয়।’ দাম্পত্যের পথ আলাদা হয়ে গেলেও সন্তানের ভবিষ্যতের স্বার্থে এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। জয়জিতের কথায় স্পষ্ট যে, তিনি অতীতকে আঁকড়ে ধরে না থেকে বরং একজন দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে নিজের নতুন জীবন ও ক্যারিয়ারকে গুছিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।