পর্দায় তাঁকে দেখলেই দর্শকের মনে ভেসে ওঠে ভদ্র শিক্ষিত এক মানুষের ছবি। অথচ নতুন চরিত্রে অনির্বাণ চক্রবর্তীর মুখ জুড়ে গভীর কাটা দাগ, হাতে রিভলবার আর চোখে অচেনা হিংস্রতা। একেবারে বিপরীত এই রূপেই বাংলা জি ফাইভের সিরিজ কালীপটকায় ধরা দিচ্ছেন তিনি। অভিনেতা নিজেই বলছেন, তাঁকে দেখলেই যেন বহুরূপে সম্মুখে তোমার পংক্তি কানে বাজে। একদিকে ফেলুদার সহকারী হয়ে শীতের দুপুরে রহস্যভেদ, অন্যদিকে বসন্তে অপরাধজগতের বাসিন্দা রানা হয়ে অন্ধকারের পথে হাঁটা। এই দ্বৈত সত্তাই তাঁকে অভিনেতা হিসেবে আরও আগ্রহের করে তুলেছে দর্শকের কাছে।
অনির্বাণের কথায়, পরিচালক অভিরূপ ঘোষ এমন মানুষ যিনি অভিনেতাকে নিয়ে পরীক্ষা করতে ভয় পান না। কালীপটকা সিরিজে চার নারীর গল্পের মাঝে রানা চরিত্রটি তাঁর কাছে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। বস্তিবাসী এক মানুষের জীবন, মানসিকতা আর যাপন তিনি আগে কাছ থেকে দেখেননি। তাই চরিত্র ছোট বড় বিচার না করে শুধুমাত্র নতুন মানুষকে চেনার তাগিদেই তিনি এই কাজটি গ্রহণ করেন। তাঁর মতে, খুব অল্প দৃশ্য থাকলেও যদি চরিত্র অচেনা হয়, তা হলে সেই চ্যালেঞ্জই তাঁকে টানে। রানার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে, এক অজানা জগতের মানুষের মন বোঝার চেষ্টা।
এই চরিত্রের জন্য অনির্বাণের সাজ বদল ছিল চোখে পড়ার মতো। মাথা মুখ জুড়ে ক্ষত, চোখের মণির রং বদলানো, বারবার পোশাক পরিবর্তন সব মিলিয়ে নিজেকে আয়নায় দেখে তিনিও নাকি চমকে গিয়েছিলেন। কারণ বাস্তব জীবনের অনির্বাণের সঙ্গে রানার কোনও মিল নেই। ফিটনেস ধরে রাখার জন্য সারা বছর হালকা শরীরচর্চা আর চিত্রনাট্য পড়ে চরিত্রের মন বোঝাই তাঁর প্রস্তুতির মূল চাবিকাঠি। আলাদা করে হাঁটা চলা শেখার প্রয়োজন হয়নি, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেই শরীর নিজেই বদলে গিয়েছে বলে জানান তিনি।
রানা চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে গালমন্দ করতেও হয়েছে, যা নিয়ে অভিনেতা স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, চরিত্রের বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে গেলে সেটার ভাষাও দেখাতে হয়। এর মানে এই নয় যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এগুলো সমর্থন করেন। বরং খারাপ দিক না দেখালে ভাল দিক কখনও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে না। সমাজের বিশেষ স্তরের গল্প বলতে গেলে এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না বলেই তাঁর মত। তবে অহেতুক এই ধরনের দৃশ্য ঢোকানো হলে সেটি অবশ্যই অনুচিত।
আরও পড়ুনঃ মিঠির জীবনে হঠাৎ ঝড়! আনন্দের মাঝেই অশনি সংকেত! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!
চার অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেও আলাদা করে নজর কাড়তে হবে এমন প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নন অনির্বাণ। সহ অভিনেতার দৃশ্য খেয়ে নেওয়াকে তিনি অশ্লীলতার সঙ্গে তুলনা করেন। বরং সবাই মিলে দৃশ্যকে জীবন্ত করে তোলাই তাঁর কাছে আসল। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে স্বস্তিদায়ক। সামনে একাধিক ছবি মুক্তির অপেক্ষায়, মঞ্চে না ফিরতে পারার আক্ষেপ থাকলেও পর্দায় নানা রূপে নিজেকে ভাঙার আনন্দেই এখন ডুবে রয়েছেন অনির্বাণ চক্রবর্তী।





