অপরাজিতা আঢ্য — টলিউডের পরিচিত নাম, যিনি বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা, সব জায়গাতেই নিজের শক্তিশালী অভিনয়ে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। এখন স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘জল থই থই ভালোবাসা’-তে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাঁকে। কিন্তু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর কিছু মন্তব্য ঘিরে রীতিমতো ঝড় উঠেছে নেটপাড়ায়।
আনন্দবাজার ডিজিটালের এক খোলামেলা কথোপকথনে অপরাজিতা জীবনের নানা জটিল বিষয়ের মতোই কথা বললেন সম্পর্ক, বিয়ে, বন্ধুত্ব এমনকি আজকের দিনে বহুচর্চিত বিষয় পরকীয়া নিয়েও।
“ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্মান ছাড়া বিয়ের মানে কী?” সাক্ষাৎকারের শুরুতেই অপরাজিতা সাফ জানিয়ে দেন— “ভালো মানুষকে বিয়ে করলে জীবন সমৃদ্ধ হয়, তবে শুধুই সহবাস বা সামাজিক সম্মতির জন্য সম্পর্ক টেনে নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। যেখানে সম্মান, ভালোবাসা আর বিশ্বাস নেই, সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাটাই ভালো।” তবে তিনি কিন্তু ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিট বা সিচুয়েশনশিপ সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, “বন্ধুত্ব মানে সুন্দর একটা সম্পর্ক, সেটাকে অন্য কিছুর মোড়ক দেওয়ার দরকার নেই।”
কিন্তু পরকীয়া নিয়ে মন্তব্যেই উঠল সবচেয়ে বেশি বিতর্ক “পরকীয়া মানেই সবসময় অন্যায় নয়, বরং এটা একটা ‘সুস্থতার লক্ষণ’” — এই কথাটাই নেটদুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে। অপরাজিতা জানান, “রামায়ণ-মহাভারতের যুগ থেকেই পরকীয়া ছিল। আমি যদি একজনের সঙ্গে সংসার করি, তা বলে কি অন্য কাউকে দেখতে পারি না? আমি যদি গোলাপ ভালোবাসি, তার মানে এই নয় যে পদ্ম বা অর্কিডের দিকে তাকাবো না। মানুষ মাত্রেই নানা কিছু ভালো লাগতেই পারে।”
তাঁর যুক্তি, জীবনে যদি অপশন বেশি থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগার ক্ষেত্রও বাড়ে। তবে তিনি এ-ও বলেন, “সব কিছুর মধ্যে ব্যালান্স থাকা খুব দরকার।”
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া?
যেমনটা হয়েই থাকে — কেউ বলছেন, “খুবই যুক্তিপূর্ণ কথা বলেছেন”, তো আবার কেউ একেবারে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়েছেন। এক নেটিজেনের ভাষায়, “এই বক্তব্যই যথেষ্ট পরিবার প্রথা ধ্বংস করতে। সংসারের সুখ-শান্তি তুলে দিতে চাইলে এমন কথাই বলুন।”
অপরাজিতার জবাবও সোজাসাপ্টা এই ধরনের ট্রোল বা কটাক্ষ যে তিনি পাত্তা দেন না, তাও স্পষ্ট। তাঁর কথায়, “সম্পর্কে বিশ্বাস থাকা যেমন দরকার, তেমন আত্মসম্মানও জরুরি। আমি বড় পরকীয়া করলে আমার প্রতি বিশ্বাস থাকবে? বন্ধুত্বেও সন্দেহ ঢুকবে? তাহলে কি আত্মসম্মান থাকে?”
আরও পড়ুনঃ পর্দার দজ্জাল শাশুড়ি, বাস্তবে যেন এক মমতাময়ী মা! শেষ জীবনটা কেটেছিল অভাব অনটনে! গীতা দের জীবন কাহিনী শুনলে চোখে জল আসবে আপনারও
সব মিলিয়ে, অপরাজিতার এই খোলামেলা ভাবনার সাক্ষাৎকার একদিকে যেমন সাহসী, অন্যদিকে তেমনই বিতর্কের কেন্দ্রে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— সম্পর্ক মানেই আটপৌরে নিয়মে আটকে থাকা নয়, বরং তাতে জায়গা থাকা উচিত মানুষের অনুভূতির, নিজের চাওয়া-পাওয়ার, এমনকি তর্কসাপেক্ষ চিন্তারও।





