বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব অপর্ণা সেন (Aparna Sen)। তিনি একাধারে যেমন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী, তেমনই আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত এক চলচ্চিত্র পরিচালক। সত্তর ও আশির দশকে নিজের দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে তিনি জয় করেছিলেন কোটি কোটি বাঙালির মন। পরবর্তীতে ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’, ‘পরমা’, ‘যুগান্ত’-র মতো কালজয়ী সিনেমা পরিচালনা করে পরিচালক হিসেবেও নিজের এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে বরাবরই স্পষ্ট এবং নির্ভীক মতামত প্রকাশের জন্য তিনি পরিচিত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রবীণ অভিনেত্রী সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের চিন্তাভাবনা ও নৈতিকতা বা মোরালিটি নিয়ে একটি বড় মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, আমাদের সমাজে যারা চরম গরিব মানুষ এবং যারা খুব বড়লোক বা ধনী, তাদের মধ্যে এক ধরনের স্পষ্ট মোরালিটি বা নৈতিকতা দেখা যায়। কিন্তু সমাজের আসল সমস্যা তৈরি হয় মধ্যবিত্তদের মানসিকতার কারণে। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত ভয় নিয়েই তিনি এই সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
অপর্ণা সেনের মতে, মধ্যবিত্তদের মনে সবসময় একটা জিনিস হারানোর ভয় তাড়া করে বেড়ায়। তারা অর্থনৈতিক বা সামাজিকভাবে যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সর্বক্ষণ তাদের মনে হয় সেই অবস্থানটা বুঝি এবার হাতছাড়া হয়ে গেল! এই প্রতিনিয়ত চলতে থাকা ভয়টাই তাদের মনকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। এই হারানোর আশঙ্কার কারণেই তারা অনেক সময় জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ বা সঠিক সিদ্ধান্তগুলো নিতে ভয় পায়।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, মধ্যবিত্তদের মধ্যে বড়লোক বা গরিবদের মতো মানসিক জোর থাকে না। তারা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় সমাজ বা আশেপাশের মানুষের চোখে অসম্মানিত হতে। সবসময় তাদের মনে একটাই চিন্তা ঘুরপাক খায় ‘লোকে কী বলল?’ কিংবা ‘লোকে কী ভাববে?’। সমাজের লোক কী মন্তব্য করবে, এই ভেবেই তারা নিজেদের গুটিয়ে রাখে। আর এই লোকলজ্জা ও অসম্মানের অতিরিক্ত ভয়ের কারণেই অনেক সময় তাদের মধ্যে সঠিক মোরালিটি বা নৈতিকতা বজায় রাখার সাহসটা কমে যায়।
আরও পড়ুনঃ নিজের বায়োপিকে কাকে চান হেমা মালিনী? এক মুহূর্তও না ভেবে ‘ড্রিম গার্ল’ হিসেবে কার নাম নিবেন অভিনেত্রী?
সবশেষে বলা যায়, অপর্ণা সেনের এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাজের এক বড় অংশের মানুষ মনে করছেন, মধ্যবিত্ত জীবনের এই কঠিন বাস্তব সত্যটিই পরিচালক তাঁর সহজ কথায় তুলে ধরেছেন। আবার অনেকে এই মন্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না। তবে অপর্ণা সেনের এই স্পষ্টভাষী রূপ এবং মধ্যবিত্তের মনস্তত্ব নিয়ে তাঁর এই বিশ্লেষণ যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা সব জায়গাতেই একটি নতুন বিতর্কের ঝড় তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





