টলিউডে নেমেছে কালো মেঘ। বিষ্ণুপুরের ম্যাকনেল স্টুডিওতে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ঘটনা—দাউদাউ করে জ্বলল স্টুডিওর একটি ফ্লোর! দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই স্টুডিওতেই এখন চলছে স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বুলেট সরোজিনীর শুটিং। তবে স্বস্তির খবর, সরোজিনীর ফ্লোরে আগুন লাগেনি—লেগেছে পাশের ফ্লোরে, যেটা এখন ফাঁকা পড়ে ছিল।
কীভাবে আগুন লাগল? প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। সন্ধের একটু পরেই হঠাৎ আগুন লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে, ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দমকল আসতে আসতেই আগুন অনেকটা গ্রাস করে নিয়েছে ফ্লোরটিকে।
এই সেই ফ্লোর, যেখানে একসময় হইহই করে চলত দুই শালিক ধারাবাহিকের শুটিং। এখন সেটি ছিল একপ্রকার পরিত্যক্ত। কিন্তু এতদিনের স্মৃতি যেন নিমেষে ভস্ম!
তবে বুলেট সরোজিনী টিমের জন্য একটু হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস—শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেই। প্যাকআপের পর ফ্লোর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন সবাই। ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা থেকেও রক্ষা পেয়েছে টিম। যদিও ইউনিটের কয়েকজন তখনও স্পটে ছিলেন বলে জানা গেছে। ভাগ্য ভাল, কেউ চোট পাননি।
ঘটনার খবর ছড়াতেই ছুটে যান অনেকে ফ্লোরে। আতঙ্কে আছেন ধারাবাহিকের কলাকুশলীরাও। কারণ, শোনা যাচ্ছিল বুলেট সরোজিনী আগামী মাসেই শেষ হচ্ছে। শুটিংয়ের শেষ দিনের তারিখও নাকি ঠিক হয়ে গেছে। তার মধ্যেই এমন ঘটনা—নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে সবার মনে।
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডে মন খারাপ ‘দুই শালিক’-এর আঁখি, অর্থাৎ অভিনেত্রী তিতিক্ষা দাস-এর। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “খবরটা শুনেই যেন মাথা ঘুরে গেল। বিশ্বাস হচ্ছিল না। ওই ফ্লোরে এতটা সময় কাটিয়েছি আমরা! ধারাবাহিকটা আমার খুব কাছের ছিল। সেই ফ্লোরেই দিনের পর দিন শুট করেছি। এখনো মনে হয়, সেটার সঙ্গে একটা আবেগ জড়িয়ে আছে।”
তিতিক্ষা আরও বলেন, “জানতাম ফ্লোর ভাঙা হয় ধারাবাহিক শেষ হলে, কিন্তু শুনেছিলাম এটা পুরোপুরি ভাঙা হয়নি এখনও। তার মধ্যেই এমন ঘটনা… মনটা খুব খারাপ হয়ে গেছে। তবে ভগবানের দয়া—ওই সময় কেউ স্পটে ছিল না, তাই প্রাণহানি হয়নি। এত টাকা ক্ষতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানুষ ঠিকঠাক আছে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”
আরও পড়ুনঃ “আজেবাজে জিনিস শেখাচ্ছে, আ’ত্মহত্যার পথেও ঠেলে দিচ্ছে” বাংলা সিরিয়ালের গল্প নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী
ঘটনার তদন্ত চলছে। শর্ট সার্কিট কীভাবে হল, তা নিয়েও চলছে খতিয়ে দেখা। আর ঠিক এই প্রশ্নেই আটকে আছে টলিপাড়ার এখনকার সব আলোচনার কেন্দ্র। আগামিকাল ফ্লোরে শুটিং হবে কিনা, সেটাও এখনও চূড়ান্ত নয়।
একটা কথা ঠিক—সিনেমা-সিরিয়াল মানেই শুধু অভিনয় নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের জীবন আর অনুভূতি। আর এই আগুন যেন কেবল ফ্লোর নয়, পুড়িয়ে দিয়ে গেল সেসব স্মৃতিকেও।





