অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এবার পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন চৈতি ঘোষাল। তাঁর পরিচালিত নতুন ছবি ‘নেভারমাইন্ড’ ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং চৈতির ছেলে অমর্ত্য রায়। এক সাক্ষাৎকারে চৈতি জানান, পরিচালনার কোনও আলাদা পরিকল্পনা ছিল না। চিত্রনাট্য পড়ে গল্পটি এতটাই ভালো লেগেছিল যে, দর্শকদের সামনে সেটি তুলে ধরার ইচ্ছা থেকেই পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, এই কাজের মাধ্যমে নতুন অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং সৃজনশীলভাবে কাজ করার স্বাধীনতাও পেয়েছেন।
চৈতি জানান, ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশে বড় হয়েছেন। বাবা শ্যামল ঘোষালের প্রভাব তাঁর জীবনে গভীরভাবে রয়েছে। তবে বাবার পরিচিতি যেমন সম্মান এনে দিয়েছে, তেমনই অনেক সময় কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করেছে। অনেকেই তাঁর সঙ্গে কাজের প্রস্তাব দেওয়ার আগে দ্বিধায় থাকতেন। চলচ্চিত্রে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী আরও ভালো চরিত্র পাওয়ার আশা থাকলেও, কখনও কারও কাছে কাজ চেয়ে যাননি বলেও জানান তিনি। তাঁর বিশ্বাস, কাজই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
নতুন ছবিতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন চৈতি। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকলেও কাজের জায়গায় সবাই পেশাদার। একইভাবে ছেলে অমর্ত্য রায়কেও তিনি অন্য অভিনেতাদের মতোই পরিচালনা করেছেন। অমর্ত্যর কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং পেশাদার মনোভাবের প্রশংসা করে চৈতি জানান, বাড়িতে তিনি ছেলে হলেও শুটিং ফ্লোরে তিনি একজন অভিনেতা হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিচালক হিসেবে প্রথম ছবিতে পরিবারের সমর্থনও তাঁকে অনেক সাহস দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে রাজনীতি এবং সমাজ নিয়েও নিজের মত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন চৈতি ঘোষাল। তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে কখনও পিছিয়ে যাননি। আরজি কর কাণ্ডের পর তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেই সময় অভিনয়ের কিছু সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে বলে জানান। তাঁর মতে, শিল্পীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ থাকা জরুরি। ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, রাজ্যের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সংস্কৃতির উন্নয়নই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
আরও পড়ুনঃ আমিশাকে জড়িয়ে ধরতেই ববি দেওলের উপর ক্ষেপলেন জনতা! কেন শুটিং থামিয়ে দিলেন দর্শকরা? অভিনেত্রীর সঙ্গে কি করার চেষ্টা করেছিলেন ববি দেওল? জানালেন আমিশা পটেল!
পরিবারের প্রসঙ্গে চৈতি জানান, ছেলে অমর্ত্য শুধু অভিনেতা নন, তাঁর খুব কাছের বন্ধু। সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে তিনি ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্মানকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। নতুন প্রজন্মের ভাবনাকেও তিনি গুরুত্ব দেন, যার প্রতিফলন রয়েছে তাঁর ছবিতেও। পাশাপাশি তিনি জানান, পরিচালক হিসেবে এখানেই থেমে থাকতে চান না। খুব শিগগিরই নতুন ছবির ঘোষণা করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।





