‘জয় সত্যিই আর নেই, এই খবরটা মেনে নিতে পারছি না, মনটা ভারী হয়ে যাচ্ছে, ভাবিনি ও এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে’ জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে ভেঙে পড়লেন চুমকি চৌধুরী

টলিউডের জনপ্রিয় নায়ক থেকে রাজনীতির মঞ্চ—দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে সাফল্যের ছাপ রেখেছিলেন অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। নব্বইয়ের দশকে বাংলা সিনেমায় তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সুপুরুষ চেহারা আর সহজ-সরল অভিনয়ে অগণিত দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। ভক্তদের কাছ থেকে প্রতিদিনই আসত প্রেমপত্র, ফুল আর নানা প্রস্তাব। কিন্তু পর্দার ঝলমলে সাফল্যের আড়ালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল অনেকটা জটিল। দীর্ঘদিন ধরে সিওপিডিতে ভুগছিলেন তিনি। অবশেষে মাত্র ৬২ বছর বয়সে, ১৭ আগস্ট শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা। এই খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর অনুরাগী ও সহকর্মীদের মধ্যে।

জয়ের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এক বিশেষ সম্পর্কের গল্পও। পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর কন্যা চুমকি চৌধুরীর সঙ্গে এক সময়ে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। ‘হীরক জয়ন্তী’ ছবির শুটিং চলাকালীন তাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমে পরিণত হয়। যদিও শুরু থেকেই চুমকির বাবা জয়কে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু দু’জনের ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই থাকে। সেই সময় চুমকি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, জয় ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে চান না।

তবু শেষমেশ সেই সম্পর্ক টেকেনি। অভিনয়ে তখন ব্যস্ত জয় বিয়ের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি কেরিয়ারকে প্রাধান্য দিয়ে একের পর এক ছবির প্রস্তাব নিয়েছিলেন, এমনকি অঞ্জন চৌধুরীর একাধিক ছবির অফারও ফিরিয়ে দেন। চুমকির মন ভেঙে গেলেও সেই প্রেমকাহিনি বহুদিন টলিউডে চর্চার বিষয় হয়ে রইল। আজ জয় আর নেই, কিন্তু স্মৃতি রয়ে গেছে।

গত ১৫ আগস্ট শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। পরে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও বাঁচানো যায়নি। তাঁর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েন চুমকি চৌধুরীও। পুরনো দিনের স্মৃতি যেন হঠাৎ ফিরে আসে তাঁর কাছে। এক সময় যার সঙ্গে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই মানুষটির চিরবিদায়ে চোখের জল আটকাতে পারেননি তিনি।

চুমকি আবেগভরা কণ্ঠে জানালেন, “আমার আর জয়ের বাবা খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। সেখান থেকেই আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। জয় দেখতে সত্যিই সুদর্শন ছিল। তাই বাবা যখন ‘হীরক জয়ন্তী’ বানালেন, নায়কের চরিত্রে জয়কে বেছে নিলেন। সেই ছবি সুপারহিট হয়, আর আমরা দু’জন খুব ভালো বন্ধু হই। আজ সব মনে পড়ছে। ভাবিনি ও এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে। প্রথমে তো বিশ্বাসই করতে পারিনি, ভেবেছিলাম মিথ্যে খবর। কিন্তু পরে জানলাম সত্যিই আর নেই জয়। এখন শুধু ওর আত্মার শান্তি কামনা করি।”