টলিউডে যদি ৯০-এর দশকে কোনও অভিনেত্রীর রাজত্ব দেখে থাকেন দর্শক, তাহলে তাঁর নাম নিঃসন্দেহে চুমকি চৌধুরী। ‘মেজোবউ’, ‘সেজোবউ’, ‘মায়ের অধিকার’— একের পর এক হিট ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। এক সময় তো এমন অবস্থা ছিল, হলে টিকিট পেতেই হিমশিম দশা! তাও আবার ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি হচ্ছিল, ভাবা যায়?
চুমকির আর একটা পরিচয়ও আছে— তিনি কিংবদন্তি পরিচালক *অঞ্জন চৌধুরীর মেয়ে। তবে অভিনয়ে আসার ইচ্ছে একেবারেই ছিল না তাঁর। বরং স্কুল-কলেজ নিয়ে জীবনটা ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন স্কুল থেকে ফিরেই শুনলেন, তাঁর জীবন বদলে যাচ্ছে। চুমকি নিজেই বলছেন, “বাবা তখন *হিরকজয়ন্তী ছবির জন্য নায়িকা খুঁজছিলেন। আমাকে দেখে হঠাৎই বলে বসলেন, ‘নায়িকা তো ঘরেই আছে!’”
শুনে যতটা মজার লাগছে, বাস্তবে প্রথম শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল ততটাই বিব্রতকর। সংলাপ মুখস্থ করতেই গন্ডগোল। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেই গলা কাঁপছে। আর তা দেখে মাথায় হাত বাবার! অঞ্জন চৌধুরী নিজের মুখেই বলে ফেলেছিলেন, “এ কাকে নিয়ে এলাম!” তবে এরপর? ইতিহাস তৈরি! একের পর এক হিট ছবি আর দর্শকের অকুণ্ঠ ভালবাসা— সাফল্য যেন পিছু ছাড়ল না চুমকির।
তবে একটা কথা সবসময় নজরে পড়ে— কেন চুমকিকে অন্য পরিচালকের ছবিতে তেমন দেখা যায়নি? অফার কি ছিল না? বরং অফার এসেছিল অনেক। চুমকি নিজেই জানাচ্ছেন, “বাবা কখনও বাইরে ছবি করতে দেয়নি। একবার করেছিলাম মহাসংগ্রাম— সেটাও অল্পের জন্য। বাবা বারবার প্রযোজক-পরিচালককে ফোন করে তাগাদা দিচ্ছে, ‘ছাড়, দেরি হচ্ছে কেন’। মা তো রীতিমতো বলেছিল, ‘এইভাবে করছ তো, মেয়েকে আর কেউ ডাকবেই না।’” এবং সত্যিই, চুমকি আর কোনও বাইরের ছবিতে অভিনয় করলেন না।
এমনকি তরুণ মজুমদার-এর মতো পরিচালক যখন ‘ভালবাসা ভালবাসা’ ছবির জন্য ডাক পাঠিয়েছিলেন, তখনও করা হয়নি। কারণ? বাবার ‘না’। চুমকি কিন্তু এ নিয়ে একটুও আক্ষেপ করেন না। বলেই দেন, “আমি কোনওদিনই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলাম না। ভাল জীবনযাপন, পরিবার— সেটাই ছিল প্রাধান্য। খ্যাতির পিছনে দৌড়নোর ইচ্ছেই ছিল না।” আর তাই হয়তো না চাইতেই সাফল্য এসে গিয়েছিল হাতে।
আরও পড়ুনঃ আরজি কর-কাণ্ডের এক বছর, ফের ‘রাতদখল’? বিনোদন দুনিয়ার কে কে থাকবেন পাশে?
এই মুহূর্তে সিনেমা থেকে অনেকটাই দূরে তিনি। মাঝেমধ্যে কিছু সিরিয়ালে দেখা মেলে, তবে ব্যস্ততা মূলত সংসার ঘিরেই। আজও চুমকি চৌধুরী মানেই ৯০ দশকের সেই দুষ্টু-মিষ্টি মেয়ে, যাঁর অভিনয়ের স্মৃতি রয়ে গিয়েছে দর্শকের মনে গেঁথে।





