চলতি বছরের শুরুতেই গায়িকা দেবলীনা নন্দী ও তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দীর দাম্পত্য জীবনে অশান্তির খবর সামনে আসে। পরে দেবলীনার আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরলেও তাঁদের সম্পর্কের পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে জানা যায়। সম্প্রতি চন্দননগরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের জিনিসপত্র আনতে গিয়ে আবারও সমস্যার মুখে পড়েন গায়িকা।
এরই মধ্যে প্রবাহ নন্দীর বিরুদ্ধে বারুইপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন দেবলীনা। ১৯ জুন সেই মামলার শুনানি হয়। আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দেবলীনা এবং তাঁর আইনজীবীরা। সেখানে তিনি জানান, বারবার হেনস্থার শিকার হওয়ায় বাধ্য হয়েই আইনি পথে এগোতে হচ্ছে তাঁকে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেবলীনার আইনজীবীর দাবি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ে হয় এবং বিয়ের পর থেকেই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের দিনই দেবলীনার মাকে তাঁর গায়ের রং নিয়ে অপমান করা হয়েছিল। এছাড়াও ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়ে মদ্যপ অবস্থায় প্রবাহ দেবলীনার উপর শারীরিক আক্রমণ করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
আইনজীবীর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপে দেবলীনা চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এরপরই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়। তবে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের জিনিসপত্র ফেরত আনতে গিয়েও তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। কিছু জিনিস উদ্ধার হলেও বেশ কিছু মূল্যবান গয়না এখনও ফেরত পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, প্রবাহর পক্ষ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আরও পড়ুনঃ শুটিং ফ্লোরে আলাপ! এখন বাস্তবে প্রিয় বন্ধু! অরিজিতার জন্মদিনে ভালোবাসায় ভরালেন মানসী ও তনুশ্রী!
সাংবাদিক বৈঠকে আরও একাধিক অভিযোগ তোলেন দেবলীনা। তাঁর দাবি, প্রবাহ নিয়মিত মদ্যপান করতেন এবং প্রায়শই তাঁকে মারধর করতেন। শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধেও মানসিক হেনস্থার অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে অনুসরণ করার ঘটনাও ঘটেছে। ইতিমধ্যেই দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রবাহ নন্দীর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।





