পঞ্চাশে মা হলেন জোজো, নেই রক্তের টান— তবুও গর্বিত নিজের সিদ্ধান্তে!

জোজো মুখার্জী— বাংলা সংগীত জগতের চেনা মুখ, প্রাণবন্ত গানে যিনি ৮ থেকে ৮০— সবাইকে মাতিয়ে রেখেছেন বহু বছর ধরে। আর সেই জোজোই এবার খবরের শিরোনামে এলেন এক অন্যরকম কারণে। না, কোনও নতুন অ্যালবাম বা স্টেজ শো নয়। বরং, ৫০ বছর বয়সে এসে আবারও একজন শিশুকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্তে।

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। ২০২১ সালে, করোনার সময় এক ছোট্ট পুত্রসন্তানকে দত্তক নিয়েছিলেন জোজো। নাম রেখেছেন আদি। সেই সময় তাঁর নিজের একটি কন্যা সন্তান ছিল— নাম বাজো, এখন বয়স ২৮ বছর। কিন্তু হঠাৎ করে এমন বয়সে ছেলেকে দত্তক নেওয়া— তা নিয়ে অনেকেই কৌতূহলী হয়েছিলেন। উঠেছিল নানা প্রশ্ন, কিছু সমালোচনাও। কারও কারও কটাক্ষ ছেলের গায়ের রং নিয়েও। কিন্তু জোজো সেসব কানে তোলেননি। বরং, এখন এক সাক্ষাৎকারে নিজের সিদ্ধান্তের পিছনের কারণটা সামনে আনলেন গায়িকা। আর সেটা শুনে সত্যিই অবাক হতে হয়।

জোজো বলেন,
“আমি অনেক ছোট থেকেই দত্তক নেওয়ার কথা ভাবতাম। আমার দাদু-দিদা দু’জনেই এমএলএ ছিলেন। আমি দেখেছি, কত শিশু তাঁদের কাছে বড় হয়েছে। তখন থেকেই মনে হতো— এত অনাথ শিশু আছে, কেউ একটু ভালবাসা দিলে জীবন বদলে যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন,
“অনেকে তো কত কিছুতে টাকা খরচ করেন— একটু ভাবলে, একজন করে শিশুর দায়িত্ব নিলে তাদেরও একটা সুন্দর পরিবার হতে পারত। আমি যদি আরও চারটে শিশুকে দত্তক নিতে পারি, আমি খুব খুশি হব।”

আদিকে দত্তক নেওয়ার পরে জোজোর জীবন পুরো পাল্টে গেছে। তিনি বলেন,
“সন্তান মানুষ করতে গেলে সমাজের অনেক কথাই শুনতে হয়। বিশেষ করে যদি সেটা দত্তক নেওয়া হয়। কিন্তু লোকের কথা শুনলে তো কিছুই করা যাবে না। আমি যা বিশ্বাস করি, সেটাই করি। আদিকে নিয়ে আমি গর্বিত।”

আরও পড়ুনঃ সুপ্রিয়া দেবীর কন্যা সোমা ৭০-এ! এখন কেমন আছেন অভিনেত্রীর একমাত্র মেয়ে?

জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে এসে জোজো যেন আরও পরিণত, আরও মমতাময়ী। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও, হৃদয়ের সম্পর্ক যে অনেক বড়— সেটা আবার প্রমাণ করলেন এই গায়িকা।