“আমি ক্ষণজন্মা, বহু মেয়ে আমায় বিয়ে করতে চাইত” একসময় ছিলেন স্টার তারকা, কিন্তু হঠাৎই সরে যান অভিনয় জগৎ থেকে! রাজনীতিতে এসেছে সহ্য করেছেন কষ্ট! জানুন জয় ব্যানার্জির জীবনের অজানা কাহিনী

বাংলা সিনেমায় এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। আট-নয়ের দশকে তাঁর দাড়িওয়ালা লুক, গ্ল্যামার, অভিনয় সবই দর্শকের মনে দাগ কেটেছিল। ক্লিনশেভড নায়কদের ভিড়ে একেবারে অন্যভাবে উঠে এসেছিলেন তিনি। ‘অপরূপা’ ছবির মাধ্যমে বাংলা ছবিতে অভিষেক, তারপর একে একে ‘নাগমতী’, ‘জীবন মরণ’, ‘মিলনতিথি’, ‘হীরক জয়ন্তী’— প্রতিটিতেই দর্শকের কাছে হয়ে ওঠেন প্রিয় নায়ক। নিজের কেরিয়ার, সাফল্য, প্রেম, বিয়ে, রাজনীতি সব নিয়েই অকপটে কথা বললেন জয়।

জয় বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই অন্যরকম ছিলেন। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে পড়াশোনা শুরু, পরে সেন্ট জেভিয়ার্স আর আশুতোষ কলেজ। ছাত্রজীবনেই নাটক-অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। অভিনয়ের হাত ধরে পরিচিতি আসে খুব তাড়াতাড়ি। তাঁর নিজের কথায়, “আমি রোম্যান্টিক হিরো। আমার মতো হিরোরা খুব ক্ষণজন্মা হয়। রাজেশ খান্না, ঋষি কাপুরের মতোই আমিও সেই লিস্টে।”

অভিনয়ের পাশাপাশি জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচনার বিষয় হয়নি। মিস ক্যালকাটা অনন্যার সঙ্গে তাঁর প্রেম আর বিয়ে একসময় খবরের শিরোনাম হয়েছিল। জয় বলেন, “আমার তিনটে ডেট ক্যানসেল করে অনন্যাকে বিয়ে করি। চার দিনের মধ্যেই আমাদের বিয়ে হয়। অনন্যা সুন্দরী, গুণী মেয়ে। এখন রাজনীতির পথে আমরা আলাদা হলেও ওর প্রতি আমার কোনও বিদ্বেষ নেই।” পরে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আসানসোলের অঙ্কিতাকে।

নায়ক হিসেবে জয়কে ঘিরে মেয়েদের উন্মাদনারও শেষ ছিল না। সে সময় অসংখ্য ফ্যান চিঠি, ছবি, এমনকি বিদেশ থেকে প্রস্তাবও পেয়েছেন তিনি। হাসতে হাসতে জয় বলেন, “আট-নয়ের দশকে অনেক মেয়ে আমার ছবি বালিশের তলায় রেখে ঘুমোত। এক মহিলা তো নিজের মেয়ের জন্য আমাকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন!” তবে কেরিয়ারের শীর্ষে থেকেও নানা কারণে ধীরে ধীরে ছবির জগত থেকে সরে আসেন তিনি। দুর্ঘটনা, অসুস্থতা আর পছন্দের পরিচালকরা একে একে না থাকায় সিনেমায় ফেরার সুযোগ কমে আসে।

এখন রাজনীতির ময়দানই তাঁর কর্মক্ষেত্র। জয় মনে করেন, মোদীজির হাত ধরেই তিনি জীবনের শেষ স্বপ্ন পূরণ করতে চান— “আমার শেষ ইচ্ছে সোনার বাংলা তৈরি করা।” তবে একটা আক্ষেপ রয়েই গেছে তাঁর মনে। কখনও পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাননি। জয় বলেন, “বাবা পুলিশ ছিলেন। তাই একদিন পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করাই আমার শেষ স্বপ্ন।”