“সাত বছরেও মেয়ের মুখে ‘বাবা’ ডাক শুনিনি!”— এক সময়ের জনপ্রিয় চাইল্ড আর্টিস্ট মাস্টার রিন্টুর জীবন এখন এক কঠিন লড়াইয়ের গল্প!

টলিউডে একটা সময় ছিল, যখন ‘মাস্টার রিন্টু’ নামটা শুনলেই সবার চোখে ভেসে উঠত এক খুদে তারকার মুখ। ছোট্ট বয়সেই ২০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয়! তাপস পাল, শতাব্দী রায়, সন্ধ্যা রায়ের মতো মহাতারকাদের সঙ্গে কাজ করে ফেলেছেন সেই বয়সেই।

প্রকৃত নাম সজল দে। ক্যামেরার সামনে প্রথমবার দাঁড়িয়েছিলেন পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর ‘গুরুদক্ষিণা’ ছবিতে। তখন সবে অভিনয়ের শুরু। কিন্তু তার পরের যাত্রাটা যেন এক রূপকথার মতো— একের পর এক হিট ছবি, পরিচিত মুখ, জনপ্রিয়তা… ছোট বয়সেই যেন একটা স্বপ্নের জীবন।

কিন্তু হঠাৎই সব বদলে যায়।

মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় থেকেই নেমে আসে ঝড়। বাবার অসুস্থতা, সংসারের আর্থিক চাপ—সব কিছু একসঙ্গে এসে যেন থামিয়ে দেয় তার সেই উড়ান। অভিনয় ছাড়তে বাধ্য হন। একটা স্থায়ী জীবিকার খোঁজে নামতে হয় যুদ্ধের ময়দানে।

অভিনেতা হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে এত বছর কাটালেও পাশে এসে দাঁড়ায়নি কেউ—এই অভিমান আজও গলায় আটকে থাকে সজলের। বলছিলেন, “তাপসদা, সন্ধ্যাদেবী, শতাব্দী রায়ের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে কাজ করেছি। সন্ধ্যাদেবী তো আমায় ছেলের মতো দেখতেন। কিন্তু আজ কেউ খোঁজও নেয় না!”

তার আক্ষেপ—“এখন অনেককেই দেখি যারা অভিনয় জানেই না, তারাও স্ক্রিনে জায়গা পাচ্ছে। আমি তো তরুণ মুখার্জী, অঞ্জন চৌধুরীর মতো পরিচালকের কাছে তৈরি একজন অভিনেতা। সুযোগ পেলে যে কোনও চরিত্রে নিজের অভিনয়টা প্রমাণ করতে পারি।”

একসময় দেব-জিতের ছবিতেও ছোটখাটো চরিত্রে ফিরেছিলেন পর্দায়, কিন্তু সাফল্য আর ধরা দেয়নি। তাই অন্য কাজ করেই সংসার চালাতে হয় তাকে।

আর তার ব্যক্তিগত জীবন? সেটাও সহজ ছিল না।

সজল আজ একজন বাবা। কিন্তু তার ছোট্ট মেয়েটি অটিজমে আক্রান্ত। বয়স সাত পেরিয়ে গেলেও এখনও বলেনি—“বাবা”! সজল কাঁপা গলায় বলেন, “সাত বছর হয়ে গেল, এখনও বাবার ডাক শুনতে পেলাম না… কিন্তু লড়াইটা থামবে না।”

এই কথার মধ্যে যেন একটা পাহাড়সম কষ্ট আর একরাশ আশা লুকিয়ে।

আরও পড়ুনঃ “সত্যজিতের ভাঙা বাড়ি” নিয়ে বিতর্ক! মুখ খুললেন ছেলে সন্দীপ রায় — ‘সেই বাড়িতে আমরা কোনওদিন যাইনি’

তবুও অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা অটুট। অন্তরালেই হলেও অভিনয় করেন। মন থেকে বিশ্বাস করেন—একদিন কোনও এক পরিচালক বা প্রযোজক বুঝবেন তাঁর শিল্পীসত্তাকে, আর হয়তো ফের একবার পর্দায় ফিরবেন সেই পুরোনো রিন্টু, যিনি ছোট্ট বয়সেই সব দর্শকের মন কেড়ে নিয়েছিলেন।

এ এক হার না মানা গল্প। নিছক একটা শিশুশিল্পীর নয়—এটা এক লড়াকু মানুষের যাত্রা, যার নাম সজল দে, আমাদের চেনা মাস্টার রিন্টু।