“সত্যজিতের ভাঙা বাড়ি” নিয়ে বিতর্ক! মুখ খুললেন ছেলে সন্দীপ রায় — ‘সেই বাড়িতে আমরা কোনওদিন যাইনি’

বাংলাদেশের ময়মনসিংহে একটি পুরনো বাড়ি ভাঙাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো বিতর্ক শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, ওই বাড়িটিই নাকি বিশ্বখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের ভিটে! তবে এই বিষয়ে এবার মুখ খুললেন স্বয়ং তাঁর ছেলে, পরিচালক সন্দীপ রায়।

এক্সক্লুসিভভাবে এক সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, “এই বাড়ি নিয়ে যা শুনছি, সবই সংবাদমাধ্যমে। আমরা কখনওই ওই বাড়িতে যাইনি, বাবাও যাননি। আমি তো একেবারেই জানি না সেই বাড়ি আমাদের কীভাবে হতে পারে।”

তাহলে রায় পরিবারের আদি বাড়ি কোথায়?

সন্দীপ রায় স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের আদি বাড়ি ছিল মসুয়া গ্রামে। ওই এলাকাতেই ছিল, তবে এখন যেটা ভাঙা হয়েছে, তার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা কখনও সেই বাড়িতে গিয়েছি বলেও মনে পড়ে না।”

বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান

এই বিতর্ক ছড়াতেই, বাংলাদেশ সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়। বলা হয়, যে বাড়িটি ভাঙা হয়েছে সেটি এক সময়ের স্থানীয় জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী তৈরি করেছিলেন। তাঁর কাজকর্ম দেখভাল করার জন্য যাঁরা থাকতেন, তাঁদের জন্য ওই বাড়ি বানানো হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেটি সরকারের অধীনে চলে যায় এবং পরে শিশু অ্যাকাডেমির ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়।

তাহলে সত্যজিতের আদি বাড়ি কোথায় ছিল?

বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ওই এলাকার একটি রাস্তার নাম রয়েছে হরিকিশোর রায়-এর নামে — যিনি ছিলেন সত্যজিতের দাদু উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পালক পিতা। সেই রাস্তায় একসময় রায় পরিবারের একটি বাড়ি ছিল ঠিকই, কিন্তু বহু বছর আগে সেটি বিক্রি হয়ে যায়, সেখানে এখন বহুতল ভবন দাঁড়িয়ে।

এই নিয়ে সন্দীপ রায় বলেন, “না, আমার কাছে এটা নতুন খবর। আমি যা জানি, আমাদের আদি বাড়ি ছিল মসুয়া গ্রামেই। ওই রাস্তার বাড়ির সঙ্গে আমাদের কোনও সংযোগ আছে বলে আমার জানা নেই।”

আরও পড়ুনঃ “আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা!” নতুন অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে অহনা, খুশির মুহূর্তেও ট্রোলের শিকার! কী বললেন অভিনেত্রী?

পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে সন্দীপ রায়ের বক্তব্য স্পষ্ট — “বাড়ি ভাঙা” যে ঘটনা নিয়ে এত হইচই, সেটির সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক ইতিহাসের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ নেই বলেই তাঁর বিশ্বাস। সবমিলিয়ে, সত্যজিতের শিকড় খুঁজতে গিয়ে আরও কিছু তথ্য উঠে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এক কথায়, বিতর্কিত বাড়িটি সত্যজিতের নয় — অন্তত সন্দীপ রায়ের বক্তব্য ও বাংলাদেশের সরকারের তথ্য তাইই বলছে।