“সন্তানকে আদর করতেও আজ বাবাকে অনুমতি নিতে হচ্ছে!”— এমন মন্তব্যে চমকে গেছেন অনেকেই। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পদ্মশ্রী প্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর শিশুদের ‘নিরাপত্তা শিক্ষা’ নিয়ে মুখ খুলতেই তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তাঁর সাফ বক্তব্য— পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে আমদানি করা ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’-এর মতো শিক্ষা আদতে ভারতীয় পারিবারিক সংস্কৃতিকে বিকৃত করছে, শিশুর শৈশব কেড়ে নিচ্ছে।
বর্তমানে শিশুদের প্রতি যৌন হেনস্থার খবর প্রায় রোজই উঠে আসছে খবরের শিরোনামে। একেবারে এক-দু’মাসের শিশু থেকে শুরু করে কিশোর—কারও উপরেই নেই রেহাই। স্বাভাবিকভাবেই, এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই এখন দেশ-বিদেশে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’-এর মতো সচেতনতা মূলক শিক্ষা। অনেক স্কুল ও পরিবারই শিশুদের শেখাচ্ছে—শরীরের কোন স্পর্শ নিরাপদ, আর কোনটা নয়।

কিন্তু মমতা শঙ্করের মতে, এই শিক্ষা দিতে গিয়ে আমরা শিশুর মনেই ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছি। তাঁর প্রশ্ন—“ভালোবাসা প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও যদি এত সাবধান হতে হয়, তাহলে সম্পর্কটাই বা কেমন করে গড়ে উঠবে?” তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বাবা-মা নিজের সন্তানকে আদর করতে গেলেও ভাবতে হচ্ছে, এটা ‘ব্যাড টাচ’ হিসেবে ধরা পড়বে না তো?
এই উদ্বেগ থেকেই তাঁর দাবি—শিশুদের যতটা না সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি *ভয়ের পরিবেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী, শিশু নিজেরও না বুঝে কোনও ছোঁয়াকে খারাপ বলে মনে করতে পারে, যা তার মানসিক বিকাশের জন্য *ক্ষতিকর হতে পারে বলেই মত তাঁর।
তবে মমতার এই মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বহু মানুষ। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সমাজে যেখানে শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি, সেখানে তাদের এমন শিক্ষা দেওয়া ভীষণ জরুরি। কেউ কেউ বলছেন, মমতা শঙ্করের মত বিপজ্জনক বার্তা সমাজকে ভুল পথে ঠেলে দিতে পারে।
তবে অনেকে আবার তাঁর বক্তব্যকে সাহসী বলেও অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, মমতা শুধুই সচেতনতা নয়, তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন শিশুর মানসিক স্বাভাবিকতা ও আদরের পরিবেশ বজায় রাখার দিকটায়।
আরও পড়ুনঃ “অনেকে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেন না”— প্যাড বিতর্কে পিসি মমতা শঙ্করকে বিঁধলেন ভাইঝি শ্রীনন্দা শঙ্কর?
শেষমেশ, প্রশ্নটা থেকেই যায়—শিশুদের ‘নিরাপত্তা’ শেখাব, না ‘ভয়’ শেখাব? ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’ কি আদৌ সঠিক পদ্ধতি, না কি তার আড়ালে বড় কোনও ভুল বার্তা তৈরি হচ্ছে সমাজে? বিতর্ক চলছেই। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—এই দুটোর মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।





