সম্প্রতি জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ডান্স বাংলা ডান্স’ ঘিরে শুরু হয়েছে জোরদার বিতর্ক। কারণ, এই অনুষ্ঠানের একটি পারফরম্যান্সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সৃষ্টি \‘চণ্ডালিকা’*র আদলে পরিবেশনা করতে দেখা যায় অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত এবং প্রতিযোগী অনুষ্কাকে। তবে সমস্যার সূত্রপাত হয় যখন দেখা যায়, এই পারফরম্যান্সে রবীন্দ্রসঙ্গীত বা নাটকের কোনও সংলাপ নেই, বরং বলিউডের গান *‘তেরে বিনা জিন্দেগি সে কয়ি’-র তালে নাচ পরিবেশন করা হয়েছে।
নাচের থিম, সাজসজ্জা ও পরিবেশনার সঙ্গে গানের এই অমিল একাংশ দর্শকের কাছে প্রশ্নের জন্ম দেয়— এই কি তবে চণ্ডালিকা? বিষয়টি নিয়ে সমাজ মাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক ও সমালোচনা। দর্শকের পাশাপাশি নজরে আসে অনুষ্ঠানটির অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর-এর ভূমিকা। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, তিনি সেই সময় উপস্থিত থেকেও কেন এর প্রতিবাদ করেননি?
অবশেষে মঙ্গলবার একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মমতা শঙ্কর। জানালেন, তিনি কোনও ভাবেই এই পরিবেশনার সঙ্গে একমত নন। বরং শুটিং চলাকালীনই তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে এই পরিবেশনার সঙ্গে চণ্ডালিকার কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, “এই পরিবেশনা দেখে আমি লজ্জা পেয়েছি। এটা চণ্ডালিকা নয়, এটা কিছুই নয়।” মমতা আরও জানান, সেটে উপস্থিত অনেকেই তাঁর বক্তব্যে সম্মতিও প্রকাশ করেছিলেন।
তবে সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হলো, অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সময় তাঁর সেই সমালোচনামূলক বক্তব্য সম্পূর্ণ কেটে বাদ দেওয়া হয়। মমতা শঙ্করের দাবি, এই ‘এডিটিং’ ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “আমি কখনওই এমন নিম্নমানের অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। আমার বক্তব্য প্রচারে না এনে আমার ভাবমূর্তিকে বিকৃত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি আরও বলেন, বিচারকের আসনে বসার বিষয়ে তাঁর মত বরাবরই সংরক্ষিত। কারণ প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর বিশ্বাসের একধরনের বিরোধ রয়েছে। তবুও সম্পর্ক ও অনুরোধের খাতিরে তিনি অনেকবার বিভিন্ন মঞ্চে অংশ নেন। কিন্তু এভাবে বক্তব্য বাদ দেওয়া তাঁর বহু বছরের ভাবমূর্তি ও শিক্ষার পরিপন্থী।
শেষে মমতা বলেন, “আমি নিজের ক্ষতি নিজে কেন করব? আমার ছাত্রছাত্রীরা জানে আমি কী ভাবি, কী বলি। তবুও এই ভুল বার্তা সমাজে ছড়ানো সত্যিই কষ্টের।” তিনি চান, ভবিষ্যতে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে সম্প্রচারিত হোক, যাতে দর্শকরা বুঝতে পারেন, তিনি কী সমর্থন করেন আর কী করেন না।
আরও পড়ুনঃ বোনের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা! আকাশের বিশ্বাসঘাতকতায় সর্বস্বান্ত রায় পরিবার, মাথার উপর থেকে ছাদ হারাল শুভলক্ষ্মী!
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, শিল্পের নামে এমন চটকদার উপস্থাপনা কতটা গ্রহণযোগ্য? এবং আরও বড় প্রশ্ন— মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি টিআরপি-র দোহাইয়ে কেটে ফেলা যায়?





