বলিউড মানেই গ্ল্যামার, সাফল্য আর নানা রকম সম্পর্কের ওঠাপড়া। এই রঙিন দুনিয়ায় অনেক তারকার জীবনই কখন যেন সিনেমার গল্প হয়ে ওঠে। তেমনই একজন অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়—বাংলার গর্ব, যিনি ‘বালিকা বধূ’ সিনেমার সেই মিষ্টি মেয়েটি থেকে শুরু করে ‘রিমঝিম ঘিরে সাওয়ান’ গানে সারা ভারতের মন জয় করে নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটা অধ্যায় রয়েছে, যা আজও অনেকের অজানা।
অভিনয়ের শুরুটা হয়েছিল বাংলায়, তরুণ মজুমদারের পরিচালনায়। এরপর ধীরে ধীরে পা রাখেন হিন্দি সিনেমায়, আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক হিট ছবি, অমিতাভ বচ্চনের মতো সুপারস্টারের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার, এমনকি লতা মঙ্গেশকরের মতো কিংবদন্তি গায়িকা তাঁর লিপে গান গেয়েছেন—মৌসুমীর বলিউড যাত্রা নিঃসন্দেহে ছিল সাফল্যে ভরা।
তবে ঠিক এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবনের অন্যরকম টানাপোড়েন। একদিকে অভিনয়জগতে দাপট, অন্যদিকে ঘর-সংসার। তাঁর স্বামী জয়ন্ত মুখোপাধ্যায় ছিলেন কিংবদন্তি গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ছেলে। হেমন্তকুমারের পুত্রবধূ হিসেবে মৌসুমীও ছিলেন সেই নামী সংগীত পরিবারে এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
কিন্তু মুম্বইতে কাজ করার সময়, শোনা যায় এক বিতর্কিত ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটর রমেশ সিপ্পির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। বলিপাড়ায় তখন এই সম্পর্ক নিয়ে কানাঘুষো চলছিল বেশ জোরেশোরেই। এমনকি গুঞ্জন ছিল, এই সম্পর্ক এতটাই গভীর হয়েছিল যে, মৌসুমী নাকি সংসার ছাড়ার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছিলেন! দু’জন সন্তানের মা হয়েও, তিনি নতুন পথে হাঁটার কথা ভাবছিলেন।
আরও পড়ুনঃ *নতুনদের সুযোগ দিতেন না লতা মঙ্গেশকর? বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অনুরাধা পড়োয়াল
তবে শেষমেশ সেই পথ আর বেছে নেননি তিনি। সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে ফিরে আসেন নিজের পরিবারে—স্বামী জয়ন্ত ও সন্তানদের কাছে। বলিউডের জগতে যেখানে সম্পর্কের ভাঙাগড়ার গল্প লুকিয়ে রাখা যায় না, সেখানে মৌসুমীর এই অধ্যায় প্রায় নিঃশব্দেই থেকে যায়। হয়তো হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের সম্মান বা নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—এই সমস্ত কিছুর মাঝখানে থেকেই এই গল্প হারিয়ে যায় আলো-আঁধারির মাঝে।
আজ, এই কাহিনি শোনালে মনে হয়—বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ার পেছনেও কত না অসমাপ্ত গল্প লুকিয়ে থাকে। মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের এই অধ্যায় তেমনই এক না-বলা গল্প, যা অনেকের কাছেই এখনও অজানা।





