‘শুভশ্রী আমার জীবন, দেব প্রাক্তন! প্রত্যেকের অতীত থাকে, স্মৃতি আছে, সম্মান করি, ঈর্ষা করি না’ দেব-শুভশ্রীর রিইউনিয়নে ঈর্ষা নয়, তির্যক মন্তব্য রাজের

সোমবার নজরুল মঞ্চে ছিল ‘ধূমকেতু’র ট্রেলার লঞ্চ। দীর্ঘ দশ বছর পর বড়পর্দায় ফিরলেন এক সময়ের জনপ্রিয় জুটি দেব ও শুভশ্রী। মঞ্চ আলো করে হাজির ছিলেন দু’জনেই। আর সেই সন্ধ্যা যেন বদলে দিল বহু দিনের ছায়া-অন্ধকার। দেব-শুভশ্রী জুটিকে এক ফ্রেমে দেখে উত্তেজিত দর্শকদের ভিড়ের মাঝেই অনুপস্থিত ছিলেন রাজ চক্রবর্তী। কিন্তু অনুপস্থিত থেকেও আবেগে ঠিকই ছিলেন জড়িয়ে—সেই কথাই উঠে এল আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে কথোপকথনে।

রাজ বললেন, “অনুষ্ঠানটা এত ভাল ছিল শুনে মনে হচ্ছিল, আমি কেন গেলাম না! ইচ্ছে হচ্ছিল মুখোশ পরে দর্শকদের ভিড়ে মিশে গিয়ে আমিও চিৎকার করে উঠি ‘দেশু’!” রাজের মতে, শুধু তাঁর ভাগ্নি সৃষ্টি বা মিষ্টিই নয়, সেদিনের শো উপভোগ করেছেন উপস্থিত প্রায় সবাই।

তবে কেন রাজ নিজে উপস্থিত ছিলেন না সেই সন্ধ্যায়? স্পষ্ট করে জানালেন, “অনেক কাজ আর মিটিং ছিল। তার উপরে আমি তো এই ছবির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নই।” রাজের মতে, ‘ধূমকেতু’র প্রচারের দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের জন্যই ছিল এই সন্ধ্যা। তাই নিজেকে তৃতীয় পক্ষ বলেই দেখছেন তিনি।

তবে শুভশ্রীর প্রতিটি পদক্ষেপে যে তিনি পাশে ছিলেন এবং থাকবেন, সেটা জানাতে ভোলেননি রাজ। বললেন, “আমার স্ত্রী’র যে কোনও কাজেই আমি পাশে থাকব, এটা স্বাভাবিক। আমরা সব কাজ নিয়েই আলোচনা করি—পেশাগত হোক বা ব্যক্তিগত।”

দীর্ঘ ন’বছর পর দেব-শুভশ্রী জুটি ফিরছে পর্দায়। রাজের চোখে এটি শুধু একসঙ্গে কাজ করা নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় পাওনা। সে কথা জানিয়ে বললেন, “আমাদের লক্ষ্যই ছিল, যাতে এই ফেরা দর্শকদের মনে থেকে যায়। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলেই শুনছি।”

শুভশ্রীর মুখে নাকি ছিল তৃপ্তির হাসি। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে রাজকে বলেছিলেন, “খুব ভাল হয়েছে, সবাই খুশি।” সেই হাসি যেন রাজের অনুপস্থিতিও ঢেকে দিয়েছে।

প্রশ্ন উঠতেই, দেব এবং শুভশ্রীর পুরনো সম্পর্ক নিয়ে, রাজ পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেন—“প্রত্যেকের অতীত থাকে। সেটা নিয়ে বারবার না বলাই ভাল। অতীত বলে এত সুন্দর একটা সন্ধ্যা সম্ভব হয়েছে, সেটা আমি সম্মান করি, ঈর্ষা করি না।”

দেবের সঙ্গে রাজের সম্পর্ক যে শুধুই পেশাগত নয়, বরং এক গভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গা থেকে তৈরি, সেটাও উঠে এল কথায়। রাজের মতে, “দেব এবং আমি দু’জনেই মফ্সসল থেকে এসেছি, আমাদের খিদে এক, আমরা ভাল কাজের প্রশংসা করতে জানি। তাই ও অনেকটাই আমার মতো।”

একইভাবে রাজের প্রতি দেবের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বললেন, “দেবও অনেকটা আমার মতো—লড়াই করে এসেছে, পরিশ্রম করে জায়গা তৈরি করেছে।”

এদিকে দর্শকদের মনে এখন প্রশ্ন, আগামীতে কি রাজ চক্রবর্তীর ছবিতে দেখা যাবে দেব-শুভশ্রীকে একসঙ্গে? এ প্রশ্নে রাজ জানালেন, তিনি একেবারে উন্মুক্ত। তবে সবটাই নির্ভর করবে গল্প ও চরিত্রের প্রাসঙ্গিকতার উপর। যদি কোনও প্রজেক্টে এই জুটিকে প্রয়োজন হয়, তিনি অবশ্যই পরিচালনা করবেন।

আরও পড়ুনঃ ‘নিজের বউকে বলুন…’, ক্ষেপে আগুন শ্রীময়ী! কাঞ্চনের সঙ্গে ছবি ঘিরে ফের বিতর্কের ঝড়

সব মিলিয়ে, রাজ চক্রবর্তীর এই মেলো আবেগ আর বাস্তবতার মিশ্রণ প্রমাণ করল, তিনি অনুপস্থিত থাকলেও, ‘ধূমকেতু’র আকাশে তাঁর সৃজনশীল ছায়া ঠিকই ঘুরে বেড়াচ্ছিল।