৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় নতুন মোড়! রাজপাল যাদবের মামলায় জড়াল অমিতাভ বচ্চনের নাম!

৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব। দিল্লির তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই তিনি যোগ দেন পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠানে, ভাইঝির বিয়েতে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৮ মার্চ পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বহাল থাকবে। কিন্তু এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন চমকপ্রদ তথ্য। অভিনেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলার প্রসঙ্গে উঠে এসেছে বলিউডের ‘শাহেনশা’ খ্যাত অমিতাভ বচ্চন-এর নাম, যা স্বাভাবিকভাবেই গোটা ঘটনার প্রতি নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

এই মামলায় অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মাধবগোপাল আগরওয়াল-এর আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায় পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে একটি ছবির প্রচার অনুষ্ঠান থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। সেই অনুষ্ঠান ছিল আতা পাতা লাপাতা ছবির মিউজিক লঞ্চ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও মাধবগোপাল আগরওয়াল। ব্যবসায়ী ওই অনুষ্ঠানে অমিতাভের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে ছবি তুলতে চাইলেও রাজপালের টিম তা মানতে রাজি হয়নি। এখান থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি আইনজীবীর।

আইনজীবীর কথায়, অমিতাভ বচ্চন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনও পারিশ্রমিক নেননি। ফলে তাঁকে কেন্দ্র করে আলাদা করে কোনও বিশেষ সুবিধা দেওয়া বা মঞ্চ ভাগ করার প্রশ্নই ওঠেনি। কিন্তু এই সিদ্ধান্তেই অসন্তুষ্ট হন মাধবগোপাল আগরওয়াল। অপমানিত বোধ করেই তিনি পরবর্তী সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেন বলে দাবি করা হয়েছে। সেই ঘটনাই নাকি পরে আরও বড় আইনি জটিলতার রূপ নেয় এবং দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের সূত্র ধরে মামলাটি আদালতে গড়ায়।

এই মামলার সূত্র আরও পুরনো। ২০১০ সালে নিজের ছবি নির্মাণের জন্য দিল্লির মুরালি প্রজেক্ট নামে একটি সংস্থা থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ধার নিয়েছিলেন রাজপাল যাদব। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে সফল না হওয়ায় তিনি নির্ধারিত সময়ে ঋণ শোধ করতে পারেননি। বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া না মেটানোয় বিষয়টি আইনি পর্যায়ে পৌঁছায়। শেষপর্যন্ত গত ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাইকোর্ট-এর নির্দেশে আত্মসমর্পণ করতে হয় অভিনেতাকে।

বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন এবং আগামী মার্চ মাসে আবারও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এই মামলায় অমিতাভ বচ্চনের নাম সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে নয়, বরং একটি ঘটনার সূত্র ধরে উঠে এসেছে বলে আইনজীবীর দাবি। তবু বলিউডের দুই বড় নাম এক মামলার প্রসঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আদালতের পরবর্তী শুনানিতেই স্পষ্ট হবে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয় এবং রাজপাল যাদবের ভবিষ্যৎ কীভাবে নির্ধারিত হয়।