ভিন্‌রাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর হেনস্থা, প্রতিবাদে সরব টলিপাড়ার শিল্পীরা — ব্যতিক্রম রুদ্রনীল

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। কোথাও তাঁদের আটকের অভিযোগ, কোথাও আবার শুধুমাত্র বাংলা বলার কারণে হেনস্থার ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি তোলার পাশাপাশি বুধবার কলকাতায় তাঁর নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সরব হয়েছেন কলকাতার সংস্কৃতি জগতের বহু বিশিষ্টজন। তাঁদের সাফ বক্তব্য, ভাষার উপর এই আক্রমণ একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।

এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গায়ক রূপঙ্কর বাগচী। তিনি বলেন, “এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বাংলাভাষীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ বরদাস্ত করা যায় না। যারা এই কাজ করছে, তাদের তীব্র ধিক্কার জানাই। বাংলা ভাষায় কাজ করি বলেই এই আঘাত আরও বেশি গায়ে লাগছে।”

অন্যদিকে, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতাশঙ্কর এক সামঞ্জস্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করে বলেন, “বাংলা আমার মাতৃভাষা, আমি গর্বের সঙ্গে তা বলি। তবে বিদেশি অতিথিদের সামনে বিদেশি ভাষায় কথা বলাটা শিষ্টাচার। বিদেশে গেলে যেমন ইংরেজি প্রয়োজন, তেমনই নিজের দেশে অন্য ভাষাভাষীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হিন্দির ব্যবহার করতেই হবে। কিন্তু সে কারণে কারও উপর আক্রমণ বা হেনস্থা একেবারেই অনুচিত।”

অভিনেতা কৌশিক সেনও এই পরিস্থিতিকে ‘চিন্তার’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, “যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশই দরিদ্র শ্রমিক, যাঁরা পেটের টানে ভিন্‌রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। তাঁদের কাছে সবসময় প্রয়োজনীয় নথি নাও থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাঁদের উপর এই ধরনের আচরণ হবে। এই সমস্যার রাজনৈতিক রঙ না দিয়ে মানবিকতার জায়গা থেকে সমাধান দরকার।”

অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে হতাশা ও ক্ষোভ। তিনি বলেন, “বাংলা বলা যদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়, তবে সেটি এক ভয়ংকর বার্তা দেয়। মাতৃভাষার জন্য কাউকে নির্বাসনে পাঠানো হলে তা আমাদের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক অপমান। এই পরিস্থিতিতে রাজনীতি নয়, দরকার সম্মিলিত প্রতিবাদ।”

আরও পড়ুনঃ প্রাণনাশের হুমকির মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত! বান্দ্রার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি করলেন সলমন খান

তবে এই প্রতিবাদের সুর থেকে ব্যতিক্রম রুদ্রনীল ঘোষ, যিনি সম্প্রতি বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে নিজের অবস্থান ঘিরে বিতর্কেও জড়িয়েছেন। যদিও তাঁর বক্তব্য এ প্রতিবেদনে উঠে আসেনি, তবে শিল্পীমহলের অধিকাংশের অবস্থান স্পষ্ট — ভাষা নিয়ে হেনস্থা মানা যায় না, এবং এর বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে একজোট হওয়াই একমাত্র উপায়।