গ্ল্যামার আর আলোর ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকে কত শত বিনিদ্র রাত, কত ভাঙাগড়ার গল্প। সেই রূপোলী পর্দার পেছনের কঠিন বাস্তবতাকে আবারও মনে করিয়ে দিলেন অভিনেতা সুব্রত দত্ত (Subrata Dutta)। এক সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়ে এক বুক আবেগ নিয়ে তিনি শোনালেন তাঁর দীর্ঘ তিন দশকের অভিনয় জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের কাহিনী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন, বলিউডের মতো জায়গায় নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে হলে কেবল প্রতিভা নয়, চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয় প্রতিদিন।
১৯৯৩ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করে ১৯৯৬ সালে পেশাদার অভিনয়ের দুনিয়ায় পা রেখেছিলেন সুব্রত দত্ত। আজ প্রায় তিরিশ বছর পার করার পরও নিজের কাজকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি। অভিনেতা আক্ষেপের সুরে জানান, এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিদিন হয়তো তাঁর হাতে শুটিংয়ের কাজ থাকে না। কিন্তু কাজ না থাকলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর খিদে একটুও কমেনি। শুটিং না থাকার দিনগুলোতেও তিনি ঘরে বসে একা একা স্ক্রিপ্ট পড়েন, নতুন চরিত্রের জন্য নিজেকে তৈরি করেন এবং প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিস চালিয়ে যান। কারণ তাঁর মতে, অভিনয় এমন এক সাধনা যা প্রতিদিন করতে করতেই শিখতে হয়।
আজকের দিনে যখন ইন্ডাস্ট্রিতে একটা বড় অংশ সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার এবং ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে কাজ পাচ্ছে, সেখানে সুব্রত দত্ত সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এক বুক অভিমান ও সততা নিয়ে তিনি জানান, ফেসবুকে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা খুবই সামান্য, ইনস্টাগ্রামেও আছেন মাত্র হাজার খানেক মানুষ। অনেকেই তাঁকে ফলোয়ার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু তিনি কোনোদিন সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে ছোটেননি। সোশ্যাল মিডিয়ার এই কৃত্রিম অ্যালগরিদমের যুগে বাস করেও তিনি বিশ্বাস করেন, একজন প্রকৃত শিল্পীর পরিচয় তাঁর ফলোয়ার সংখ্যায় নয়, বরং তাঁর অভিনয়ে।
স্ট্রাগল বা লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকীর উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, এনএসডি থেকে পাস করার পর সাধারণ চেহারা নিয়ে নওয়াজ যেভাবে বছরের পর বছর লড়াই করে আজকের এই শিখরে পৌঁছেছেন, তা অবিশ্বাস্য। সুব্রত বাবু অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানান, নওয়াজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি হয়তো সেখানে পৌঁছাতে পারেননি, কিন্তু লড়াইয়ের ময়দান তিনি কোনোদিন ছেড়ে যাননি। স্টারডম বা সাজগোজকে কেবল ‘অলংকার’ মনে করে তিনি চিরকাল অভিনয়ের মূল ধারাকেই নিজের ধ্যানজ্ঞান করে রেখেছেন।
আরও পড়ুনঃ গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে অন্য নারীতে আসক্ত অভিনেতা! শেষ পর্যন্ত মা’রা যায় গর্ভের সন্তান! স্বামী ওম পুরীকে নিয়ে বি’স্ফোরক সীমা কাপুর!
জীবনের এই পড়ন্ত বয়সে এসেও সুব্রত দত্তর একমাত্র লক্ষ্য হলো প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা এবং ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকা। প্যান কার্ডের বয়স নয়, বরং চরিত্রের প্রয়োজনে স্ক্রিন-এজ এবং লুকের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালকরা আজও তাঁকে অডিশনের জন্য ডাকেন। সমস্ত বাধা-বিপত্তি এবং অবহেলাকে হাসিমুখে মেনে নিয়ে আজও তিনি ট্রেইলারে কিংবা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর এই যাপনচিত্র প্রমাণ করে যে, শত প্রতিকূলতার মাঝেও একজন প্রকৃত অভিনেতা নিজের সততা ও ভালোবাসার জোরেই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকেন এবং দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন।





