আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar medical College and Hospital) ঘটনা বর্তমানে নাড়িয়ে দিয়েছেন গোটা বাংলাকে। চিকিৎসকের ধ’র্ষণ ও খু’নের মর্মান্তিক ঘটনায় সারাবাংলা ব্যাপী মুহুর্মূহু উঠেছে প্রতিবাদের আওয়াজ (RG Kar protest)। সাধারণ মানুষ থেকে বিনোদন জগতের তারকারা, সকলেই বিরোধিতা করছেন এই নিন্দনীয় ঘটনার।বিচারের দাবিতে রাত দখল করেছেন যৌ’ণ কর্মী, উকিল এবং প্রতিবন্ধীরাও।
আবহেই নির্যাতিতা চিকিৎসকের সঙ্গে ঘটে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার বিচার চেয়ে একাধিক সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের তরফ থেকে দেওয়া সম্মান। একাধিক পুজো পুজো কমিটি ফিরিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া পুজোর অনুদান। যা নিয়ে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল সমর্থকেরা। সম্প্রতি এই বিষয়েই মন্তব্য করেছিলেন অভিনেতা তথা তৃণমূলের বিধায়ক কাঞ্জন মল্লিক। তৃণমূল বিধায়কের নিশানায় এবার সরকারি কর্মীরা। যাঁর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন কাঞ্চনের সতীর্থ ও অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
কি বলেছিলেন কাঞ্চন মল্লিক?
শনিবার তৃণমূলের তরফ থেকে আয়োজিত ধর্নার বসেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। সেই ধর্নামঞ্চ থেকেই তিনি বলেছেন “অনেকে দুর্গাপুজোর অনুদান নেবেন না বলেছেন, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যাঁরা কর্মবিরতি করছেন শাসকদলের বিরুদ্ধে, তাঁরা সরকারি বেতন, বোনাস নেবেন তো? সরকারি পুরস্কার ফেরত দেবেন তো ?” বিধায়কের এই স্বর শুনে সামাজিক মাধ্যমে ফের ট্রোলের শিকার হয়েছেন তিনি।
কাঞ্চন মল্লিকের উদ্দেশ্যে কি লিখেছেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী?
এবার কাঞ্চনের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। প্রসঙ্গত, আরজিকর কান্ডের প্রতিবাদে বিনোদন জগতের যে তারকারা অভিনেত্রীদের প্রত্যক্ষভাবে প্রতিবাদী আন্দোলনে দেখা গেছে তাদের মধ্যে অন্যতম অভিনেত্রী সুদীপ্তা। রবিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তৃণমূলের বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিককে ট্যাগ করে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। অভিনেত্রী লিখেছেন “মাননীয় বিধায়ক শ্রী কাঞ্চন মল্লিক, এটা আপনি কী বললেন? কর্মবিরতি তে থাকা ডাক্তার রা সরকারী চাকরি করেন বলে তাঁদের কর্মস্থলে দিনের পর দিন ধরে ঘটে যাওয়া সরকারের অন্যায় কাজ নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলতে পারবেন না? সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে হতাশা বা উষ্মা প্রকাশ করতে গেলে একজন সরকারি চাকুরিজীবী র মাইনে নেওয়া যাবে না?”
অভিনেত্রী আরও লিখেছেন “বিচারের দাবি তে মিছিলে গেছেন বলে তাঁদের পুজোর আগে প্রাপ্য বোনাস নিয়ে খিল্লি করে বলবেন “বোনাস টোনাস যে হয়, সেটা নেবেন তো, না নেবেন না? ‘চাকরি’ শব্দ টা তো আপনি সত্যিই নিয়ে নিয়েছেন মশাই সরকারি হাসপাতালের সরকারি কর্মচারী নৃশংস ভাবে ধর্ষিত ও খুন হয়ে যাওয়া তিলোত্তমার মা বাবা কে ‘মেয়ে আত্মহত্যা করেছে’ বললো কেন- এই প্রশ্ন করার আগে সরকারের দেওয়া পুরস্কার ফেরত দিয়ে দিতে হবে? না, মানে, বিবেকের তাড়নায় কেউ ফেরত দিতেই পারেন। কিন্তু সেটাই পূর্ব শর্ত নাকি? দেওয়ালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি ঝুলিয়ে রেখে এই নির্লজ্জ কমেডি করার আগে একবার ও ভাবলেন না?
আরও পড়ুন: চিত্রার কানে বেজে উঠলো ম’রণ ঘন্টা! কি এমন গোপন কথা গোবর দেবিকে জানিয়ে দিল তিলক?
অভিনেত্রীর মন্তব্য, “আপনার কমেডি অভিনয়ই কিন্তু মানুষের মনে একদিন আপনার পাকাপাকি স্থান দিয়েছিল। আমি ও তার ফ্যান। কিন্তু আজ যেটা করলেন, ওটা কমেডি ও হয়নি, অভিনয় ও হয়নি। ওটা কিছুই হয়নি। আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক শিগগিরই, এই কামনা করি। এই সরকারি পুরস্কার অনুষ্ঠান গুলোয় আমার বহু বছর যাওয়া হয়ে ওঠে না। আচ্ছা, ওখানে পুরষ্কার দেবার আগে কি এই গুলো বলে দেওয়া হয়? মানে পুরষ্কার পাবার পরের কি করণীয় এবং কি করনীয় নয় সেগুলো কী ও কয় প্রকার? না, মানে জানতে চাইছি আর কি।” না এখানেই শেষ নয়, তীক্ষ্ম ভাষায় আরও একটি কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি শেষভাবে লিখেছেন “এক সময়ের বন্ধু/সহকর্মী কাঞ্চন মল্লিক, তোকে ত্যাগ দিলাম। অনুপ্রেরণা র লকারে চোখ, কান, মাথা, মনুষ্যত্ব, বিবেক, বুদ্ধি, বিবেচনা, শিক্ষা সব ঢুকিয়ে রেখে চাবিটা হারিয়ে ফেলেছিস মনে হয়। চাবি টা খুঁজে পেলে খবর দিস বন্ধু। তখন আবার কথা হবে, আড্ডা হবে। কথাগুলো ফোন করে বা মেসেজ করেও বলতে পারতাম হয়ত, যদি তোর বলা কথাগুলো ফোনেই শুনতাম। তুই যেহেতু সংবাদ মাধ্যমকে বললি, আমিও তাই সামাজিক মাধ্যমেতেই লিখলাম।” (অপরিবর্তিত)





