‘টিআরপি কম আসলেও কম খাটবো না!’ বউয়ের ফ্লপ কেরিয়ার বাঁচাতে এবার আসরে খোদ পরিচালক বর? প্যাকআপ শেষে সোজা শ্রুতির সেটে স্বর্ণেন্দু!

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম চর্চিত এবং ঠোঁটকাটা দম্পতি হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী শ্রুতি দাস (Shruti Das) এবং পরিচালক স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার (Swarnendu Samaddar)। তাঁদের বয়সের ব্যবধান নিয়ে একটা সময় নেটপাড়ায় কম জলঘোলা হয়নি। তবে সমস্ত সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বারেবারে প্রমাণ করেছেন, তাঁদের রসায়ন আর পাঁচটা সম্পর্কের চেয়ে আলাদা। সম্প্রতি শ্রুতির নতুন মেগা সিরিয়াল ‘জোয়ারভাঁটা’-র সেটে প্যাকআপের পর আচমকাই হাজির হন বর স্বর্ণেন্দু। বরের এই ভালোবাসায় শ্রুতি গদগদ হলেও, এই মিষ্টি মুহূর্তের আড়ালেই কিন্তু লুকিয়ে রয়েছে এক ভিন্ন খতিয়ান, যা নিয়ে ইতিপূর্বেই টলিপাড়ার অন্দরে কানাঘুষো শুরু হয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, অনেকদিন পর শ্রুতিকে বাড়ি নিয়ে যেতে শুটিং সেটে হাজির হয়েছেন স্বর্ণেন্দু। কাকতালীয়ভাবে দুজনেই পরেছিলেন কালো পোশাক। এই ‘ব্ল্যাক ম্যাচিং’ নিয়ে দুজনের মধ্যে খুনসুটিও নজর কেড়েছে ভক্তদের। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেখানে স্বর্ণেন্দু নিজে একজন ব্যস্ত পরিচালক, সেখানে হঠাৎ করে শুটিংয়ের ব্যস্ত শিডিউল ফাঁকি দিয়ে শ্রুতির সেটে এভাবে সময় দেওয়া কি শুধুই ভালোবাসা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো সমীকরণ? বিশেষ করে যখন নতুন এই সিরিয়ালটি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া, তখন সেটে বরের এই ঘন ঘন উপস্থিতি কাজের পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নিন্দুকেরা।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক দানা বেঁধেছে টিআরপি নিয়ে শ্রুতির করা কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, নতুন সিরিয়ালের টিআরপি নিয়ে কথা উঠতেই বেশ কিছুটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে জবাব দেন অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে টিআরপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কাজের উৎসাহ বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু একই সাথে তিনি এও বলেন যে, টিআরপি কম আসুক বা বেশি তাঁদের খাটনিতে কোনো খামতি থাকে না। শ্রুতির এই মন্তব্য ঘিরেই এখন নেটপাড়ায় জোর চর্চা। তবে কি শুরুতেই ‘জোয়ারভাঁটা’ আশানুরূপ টিআরপি পেতে ব্যর্থ হচ্ছে? আর সেই কারণেই কি অভিনেত্রীকে আগেভাগেই সাফাই গাইতে হচ্ছে?

টেলিভিশন দুনিয়ায় একটা অলিখিত নিয়ম রয়েছে রেটিং চার্টে নম্বর না থাকলে যত ভালো অভিনয়ই হোক না কেন, সিরিয়ালের আয়ু বেশিদিন হয় না। শ্রুতি যতই বলুন যে টিআরপি কম আসলেও তাঁরা ফুল অন এফোর্ট দিয়ে কাজ করে যাবেন, প্রযোজক বা চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কি আদৌ সেই যুক্তি মানবে? অতীতে বহু ভালো সিরিয়াল শুধুমাত্র রেটিংয়ের অভাবে মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শ্রুতির এই ‘টিআরপি ম্যাটার করে না’ গোছের আত্মবিশ্বাসী বয়ানকে অনেকে আবার তাঁর অহংকার বা ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা বলেও কটাক্ষ করছেন।

যতই বিতর্ক বা টিআরপির চাপ থাকুক না কেন, দিনশেষে স্বর্ণেন্দু আর শ্রুতির এই অফ-স্ক্রিন রসায়ন কিন্তু ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে। শত বিতর্কের মাঝেও বরের সাথে হাসিমুখে প্যাকআপ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন অভিনেত্রী। এখন দেখার, বাস্তবের এই ভালোবাসার জোর শ্রুতির নতুন সিরিয়াল ‘জোয়ারভাঁটা’-কে টিআরপির জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে, নাকি বিতর্কের ভাঁটাতেই আটকে পড়ে থাকে তাঁদের এই নতুন সফর।