‘শ্বশুরবাড়ির দাবি নাম বদলাও!’, শ্বশুর বাড়ির দাবি মানতে গিয়ে শেষ ক্যারিয়ার!

‘গল্প হলেও সত্যি’র গল্পে কিছুটা কল্পনা মিশ্রিত থাকলেও বাকি গল্পটা কিন্তু আজকের বাস্তবে খাঁটি সত্যি। তপন সিনহার পরিচালিত এই সিনেমা (Cinema) আজও বাঙালি দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বর্তমানেও, সেই একই আবেগের সঙ্গে এই সিনেমায় ডুব দেয় সিনে প্রেমীরা। রবি ঘোষ থেকে শুরু করে ছায়া দেবী, ভানু বন্দোপাধ্যায়, নাট্যকার রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত-র মতন নামজাদা অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এই সিনেমায় কাজ করেছেন।

জীবনে অনেক সময় এমন পারিবারিক চাপ এবং বাঁধা আসে যে অবশেষে নিজের ইচ্ছেকেও দমিয়ে দিতে হয়। ৬০-এর দশকের এই সিনেমায় এমন এক অভিনেত্রী রয়েছেন যিনি ত্যাগ করেছেন নিজের ভালোবাসাকে। হয়তো অনেকেই আজকে তার কথা মনে রাখেনি। খুব বেশি সিনেমা না করলেও, হাতে গোনা যে কয়েকটি করেছিলেন তার মধ্যে ফেলে গিয়েছেন অভিনয় দক্ষতার ছাপ।

এই সিনেমায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য অভিনেতা ছিলেন যোগেশ চ্যাটার্জি, যিনি বৃদ্ধর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এই সিনেমার বৃদ্ধর সঙ্গে অনেক দৃশ্যতেই দেখতে পাওয়া যায় একটি ছোট্ট মেয়ে, নাম ছিল কৃষ্ণা। মনে পড়ে? চরিত্রের কৃষ্ণার আসল নাম মন্দিরা চৌধুরী। তবে এই সিনেমায় কিংবদন্তি অভিনেতা অভিনেত্রীদের পাশাপাশি আরও এক চরিত্র জনপ্রিয়তা পায়, তা হল কৃষ্ণা।

বর্তমানে এই অভিনেত্রী সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণা করে তাঁর অভিনয় জীবনের কাহিনী ভাগ করে নিয়েছেন দর্শকদের সঙ্গে। বলেছেন, ‘গল্প হলেও সত্যি’ই ছিল তাঁর শেষ অভিনীত সিনেমা। অভিনেত্রীর বাবার ইচ্ছা ছিল অভিনেতা হবার কিন্তু ঠাকুরদা তাঁর বাবাকে অভিনয় করতে দেয়নি। তাই বাবার অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করার জন্যই মন্দিরার অভিনয় জগতে আসা।

Krishna Bose

মাত্র ৮ বছর বয়সে মহানায়ক উত্তম কুমারের সিনেমার হাত ধরে সিনেমা জগতে পা রাখেন। কিন্তু, বেশিদিন এই জীবন ছন্দে থাকতে পারেন নি। অভিনয় জগতে থাকার জন্য বিয়ে হচ্ছিল না তাঁর, তাই যবনিকা পরে অভিনয় জগতে। এমনকি, পাত্রপক্ষ তাঁর জন্মগত নামও ব্যবহার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন, তাই বিয়ের সময় তার কৃষ্ণা বোস নাম পাল্টে নতুন নাম রাখা হয় মন্দিরা চৌধুরী। এমনকি, বিয়ের কার্ডেও এই নাম থাকে। অভিনেত্রী বলেন, “বিয়ের পর প্রথম প্রথম অভ্যস্ত না হওয়ার কারণে খুব অসুবিধা হত। হঠাৎ কেউ মন্দিরা বলে ডাকলে খুব অসুবিধা হত।” আর এভাবেই তিনি হয়ে ওঠেন কৃষ্ণা থেকে মন্দিরা। সেই সময়ে অত প্রতিবাদ করার চল ছিল না। বর্তমান সময়েও অনেক শ্বশুরবাড়িতে এমন আছে যেখানে মেয়েরা কোনো কথা বলতে পারে না। এই হৃদয় স্পর্শী ইন্টারভিউ দেখে চোখের কোণে জল অনেকের দর্শকের।