“রূপের অহংকার নয়, যোগ্যতার দাম”— ট্রোলের জবাবে কড়া বার্তা দিলেন ‘টলিউডের মা’ তুলিকা বসু!

টলিউডে ‘মা’ চরিত্র মানেই প্রথম নাম তুলিকা বসুর। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা— সব জায়গায়ই মায়ের ভূমিকায় তাঁর উপস্থিতি যেন এক প্রকার নির্ভরতার প্রতীক। যদিও অভিনয়জীবনের শুরুতে তিনি দিদি বা বৌদির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, কিন্তু খুব অল্প সময়েই মাতৃসুলভ অভিনয় আর সংবেদনশীল উপস্থিতিতে দর্শকের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নেন। আজকের দিনে বাংলা বিনোদন দুনিয়ায় মা চরিত্রে তিনিই সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন শিল্পী।

তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাঁকে ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই অভিযোগ করেন, তুলিকা নাকি এখন অনেক বেশি পারিশ্রমিক দাবি করেন। কেউ কেউ বলেন, “খুব এক্সপেনসিভ! রূপের দেমাকে পা যেন আর মাটিতে পড়ে না!”

এই সব অভিযোগের জবাবে তুলিকা বসু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “টানা ২৯ বছর ধরে কাজ করছি, আমি আমার প্রাপ্যটাই চাই। বাজেট কম বলে অভিজ্ঞ শিল্পীর পরিশ্রমকে হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। আমার পারিশ্রমিক আমার প্রাপ্ত সম্মান— অহংকার নয়।”

তাঁর মতে, এই সমস্ত বিরূপ মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাস। তুলিকার কথায়, “অনেকে মনে করেন আমি নায়িকার থেকেও সুন্দরী ছিলাম, কিন্তু সেভাবে সুযোগ পাইনি। গ্ল্যামারের থেকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আমার চরিত্রাভিনয়।”

বাস্তব জীবনে যাঁরা তাঁকে চেনেন, তাঁরা জানেন, তুলিকা একেবারেই অহংকারী নন। বরং অত্যন্ত পেশাদার এবং স্পষ্টভাষী। ২০২৪ সালেও একাধিক বড় বাজেটের ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। সম্প্রতি রাজা চন্দর ‘চন্দ্রবিন্দু’ ছবিতে ভূতের মায়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শকমহলে। যদিও ছোট পর্দা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন, বড় পর্দায় তাঁর দাপট এখনও অব্যাহত।

তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক চাওয়া কোনও অহংকার নয়, বরং তা সম্মানের দাবি।” নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য ও পরিণত অভিনয়শৈলীর জন্য তুলিকা বসু আজ টলিউডের এক অবিচ্ছেদ্য নাম।