সুপারস্টার, শব্দটার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে একরাশ গ্ল্যামার। টলিউড হোক বা বলিউড, সব জায়গাতেই সুপারস্টারদের মেজাজই আলাদা। তবে আজকের সুপারস্টারদের সঙ্গে ৬০ কিংবা ৭০-এর তারকাদের মধ্যে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। এখনকার তারকাদের মন চাইলেই তবুও ছুঁয়ে দেখার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু সেই সময় এই ধরনের তেমন কোনো সুযোগই পেত না সাধারণ মানুষেরা। আর তারপরে যদি হয় সেরার সেরা নায়কের কথা, তাঁকে সামনাসামনি দেখা মানে স্বপ্নপূরণ। কথা হচ্ছে বাংলার মহানায়কের। যিনি আজকের দিনে দাঁড়িয়েও ৮ থেকে ৮০ সকলের প্রিয়। তিনি মহানায়ক উত্তম কুমার (Uttam Kumar)।
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর নায়ক। যিনি আজও নিজের জায়গা স্বমহিমায় ধরে রেখেছে। এই অভিনেতা কারোর স্বপ্নের প্রেমিক আবার কারোর উত্তম জেঠু। কিন্তু জানেন কি মহানায়ক হওয়া সত্বেও বাদ পড়েছিলেন সিনেমা থেকে। এমনকি তাঁকে শুটিং ফ্লোর থেকে বার করে দেওয়া হয়েছিল। মহানায়কের সঙ্গেও যে এমনটা হতে পারে তা হয়তো কেউ ভাবতেই পারবে না।
এখনকার যুগে হামেশাই শুনতে পাওয়া যায় তারকারা দেরি করে ফ্লোরে আসছে। আজকের দিনে এই ব্যাপার খুবই সাধারণ। কিন্তু সেই যুগে এই ধরনের বেনিয়ম কোন পরিচালকই সহ্য করত না। ফলত, করায়গন্ডায় মাশুল গুনতে হয়েছিল মহানায়ককে। শোনা যায়, শুটিং ফ্লোরে মাত্র কয়েক মিনিটের দেরিতে উত্তম কুমার পৌঁছেছিল বলে সিনেমা থেকে বাদ পড়ে যায় অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ ১০৩ জ্বর নিয়েও অসাধারণ গান! তবুও অধরা বিচারকদের মন! ‘অজুহাতের’ তকমা পেল গায়ক
এই সময়ে শিল্পী সংসদের সভাপতি ছিলেন উত্তম কুমার এবং এবং সভাপতি ছিলেন অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়। উত্তম কুমার অভিনেতা ছাড়াও পরিচালক এবং প্রযোজকও ছিলেন। সেই সময়ের অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়ের পরিচালিত সিনেমার মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন মহানায়ক। সবকিছু ঠিকঠাক থাকা সত্ত্বেও ফ্লোরে মাত্র ৫ মিনিট দেরি করে ঢোকাতে পরিচালক রেগে গিয়ে তৎক্ষণিক নায়ককে সিনেমা থেকে বাদ দিয়ে দেন। উত্তম কুমারের পরিবর্তে মুখ্য চরিত্রে পাঠ করেছিলেন প্রশান্ত কুমার। সিনেমার নাম ‘ঢুলি’। যদি এমন ঘটনা আগেও অনেকবার ঘুরতে দেখা গেছিল। অভিনেতার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন সুচিত্রা সেন। উত্তমের দেরি করে আসাতে রেগে গিয়ে ফ্লোর ছেড়েছিলেন মহানায়িকা। তবে এ কথা ঠিকই যে, সিনেমা থেকে বাদ পড়ার কারণ অর্ধেন্দু- উত্তমের সম্পর্কের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।





